ওয়াসিম উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি চট্টগ্রাম।
২১ জুন বুধবার মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ কথিত ছাত্রদল নেত্রী নাদিয়া নুসরাত কে নিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের নামে অপবাদ দেওয়ায় সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বলেন
গত বুধবার (১৪ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টা কিংবা ১২টার দিকে মিরসরাই উপজেলার কাটাছরা ও ইছাখালী ইউনিয়নের সীমান্ত রেখায় অবস্থিত শাহাজী পুকুর এলাকায় এক নারী ও চার যুবকের সন্দেভাজন গতিবিধি দেখে এলাকার লোকজন তাদের আটকায় এবং পরবর্তীতে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দেয়। এসময় ওই চার যুবক পালিয়ে গেলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নাদিয়া নুসরাত নামে একটি নারীকে আটক করে।
ঘটনার দুইদিন পর অর্থাৎ গত ১৬ জুন বিএনপির অঙ্গসংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের রেফারেন্স দিয়ে সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহারিয়ার হক মজুমদার শিমুল স্বাক্ষরিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ওই ঘটনায় ছাত্রলীগকে জড়িয়ে উদ্ভট কিছু বক্তব্য পেশ করা হয়। যা প্রকৃত ঘটনার সাথে কোনভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়। এরপর একে একে বিএনপি নেত্রী ব্যারিষ্টার রুমিন ফারহানা, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী কোন তথ্য না জেনে একটি নারী ঘটিত ঘটনাকে রাজনৈতিক রং দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে অপপ্রচার করে। এছাড়া গত ১৮ জুন কথিত ছাত্রদল কর্মী নাদিয়া নুসরাতের মাকে নিয়ে চট্টগ্রাম উত্তরজেলা বিএনপি একটি সংবাদ সম্মেলন করে । এখানে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে নেক্কারজনক মন্তব্য করা হয়।
উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক মাসুদ করিম বলেন শাহাজীপুকুর এলাকার ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগের কোন সম্পৃক্ততা নেই। এছাড়া বিএনপি-ছাত্রদল এক সময়কার তুখোড় ছাত্রলীগ নেতা, ইছাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল মোস্তফা ও তাঁর ছেলেকে জড়িয়ে মিথ্যা বানোয়াট অপপ্রচার করা হয়। তিনি আরো বলেন
কথিত নাদিয়া নুসরাত কে? তার পরিচয় কি? তার চরিত্র কেমন? এ সংক্রান্ত কিছু তথ্য ভিডিও-অডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতোমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। আমরা এসব তথ্য চিত্রে দেখেছি নাদিয়া নুসরাত ও তার ভাই রাহাদ হোসেন চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলাও রয়েছে। এ বিষয়ে আপনারা মিরসরাই থানা
পুলিশ থেকে তথ্য নিলে জানতে পারবেন। এছাড়া ছাত্রদল নাদিয়া নুসরাত নামের নারীকে নিজেদের কর্মী বলে দাবি করলেও ছাত্রদল কোন ধরণের সদস্যপদের প্রমাণ আপনাদের দিতে পারবে না। আরেকটি তথ্য হলো নাদিয়া নুসরাত মিরসরাই ডিগ্রী কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বলে উল্লেখ করা হলেও আপনারা মিরসরাই কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে এ বিষয়ে স্পষ্ট হবেন। আমরা যে তথ্য পেয়েছি ওই নারী কোন কালে মিরসরাই ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলো না।
বিএনপি ও ছাত্রদলের তরফ থেকে দাবি করা হয়, নাদিয়া নুসরাত ওই রাতে সিএনজি অটোরিকশাযোগে তার বাড়ি ফিরছিলেন।আমার প্রশ্ন হলো, নাদিয়া নুসরাতের বাড়ি ১০ নম্বর মিঠানালা ইউনিয়নের হাদিমুসা গ্রামে। যার অবস্থান মিঠাছরা বাজার থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার। নাদিয়া নুসরাত ওই রাতে তার বাড়িতে না গিয়ে ৪ যুবককে সাথে নিয়ে ১২ কিলোমিটার দূরের শাহাজীপুকুর এলাকায় কি করছিলেন? কেনই বা সেখানে গেলেন? বিষয়টি আপনারা অনুসন্ধান করে দেখুন। আপনারা আপনাদের সামাজিক ও পারিপাশ্বিক অবস্থান থেকে একটু ভাবুন, আমাদের বর্তমান সামাজিক অবস্থায় একটি উড়তি বয়সের মেয়ে রাতের অন্ধকারে ৪ জন যুবককে নিয়ে কেন নিঝুম শাহাজী পুকুর এলাকায় গেলেন?
মাসুদ করিম রানা আরো বলেন মিরসরাই শান্তির জনপদ কে অশান্ত করতে বিএনপি এই নারীকে দিয়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সুনাম ক্ষুন্ন করেছেন, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও বাংলাদেশ আওয়ামিলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মিরসরাই সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি কে নিয়ে বাজে মন্তব্য করেছেন তার তীব্র নিন্দা জানান।
তিনি আরো বলেন সবশেষে গত কয়েকদিন ধরে ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের জড়িয়ে বিএনপি ও ছাত্রদলের মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
সাংবাদিক সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন মিরসরাই উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ন আহবায়ক জাফর ইকবাল নাহিদ, মিথুন শর্মা সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের সভাপতি সম্পাদক বৃন্দ।
