দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি :
মোঃ শাহীন ইসলাম ।
দিনাজপুরে এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কলি বেগম (৩০) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। তবে জন্ম নেওয়া নবজাতকটি সুস্থ আছে বলে জানা গেছে।
কলি বেগম দিনাজপুর জেলা চিরিরবন্দর উপজেলা ২নং সাতনালা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মশিয়াপাড়ার শ্যামলের স্ত্রী।
মঙ্গলবার সকালে প্রসব বেদনা নিয়ে কলি বেগম হাসপাতালে ভর্তি হয়।
ডাক্তার সমস্ত পরিক্ষা নিরীক্ষা শেষে জানান রোগির শারীরিক অবস্থা ভালো না।
কলি বেগমের পূর্বে থেকে জরায়ু ডায়াবেটিস ও বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ছিলো।
এছাড়া ও রোগির ব্লাডগ্রুপ
(ও নেগেটিভ) হওয়ায় ডাক্তার অপারেশনের আগেই কয়েক ব্যাগ রক্ত তৈরি রাখতে বলেন।
পরে দিনাজপুরে সকল সেচ্ছাসেবী সংগঠন গুলোর সার্বিক সহোযোগিতায় একের পর এক বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে কয়েকব্যগ রক্ত ম্যানেজ করা হয়।
এদিকে কলি বেগমের অবস্থার অবনতি হলে রাতেই ডাক্তার তার অপারেশন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
রাত ১০ টায় কলি বেগমকে সিজারিয়ান অপারেশন থিয়েটার ওটিতে নিয়ে যাওয়া হয়।
কিছুক্ষণ পরেই কলি বেগমের সিজারের মাধ্যমে ফুটফুটে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।
জরায়ু ও সিজারিয়ান একসাথে দুইটি অপারেশনের জন্য পরে শুরু হয় ব্লাডিং।
একের পর এক পর্যায়ক্রমে তার শরীরে দেওয়া হয় ২২ ব্যগ রক্ত ।
রাতে অবস্থার আরো অবনতি হলে অপারেশন থিয়েটার ওটি থেকে তাকে নেওয়া হয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (আইসিইউতে)।
পরে রাত ১২টায় কর্তব্যরত চিকিৎসক কলি বেগমকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।
তবে তার নবজাতকটি সুস্থ আছে বলে জানিয়েছেন।
দিনাজপুর আলো ফাউন্ডেশনের সাধারণত সম্পাদক ও চিরিরবন্দর উপজেলা (রক্তদান সমাজ কল্যাণ সংস্থা) সভাপতি মোঃ আসাদুল ইসলাম আসাদ জানান, ভালো নেই আজ দিনাজপুর জেলার সকল সেচ্ছাসেবী ও রক্তযোদ্ধা ভাইবোন
গুলো।
(O-)ও নেগেটিভ ব্লাড এর
বন্যা বয়ে গেলো আজ দিনাজপুর মেডিকেল (১২-০৯-২৩)!!
আজ থেকে ২৫-২৭ দিন আগে আমার এলাকার এক আঙ্কেল আমার দোকানে এসে…. বাবা আমার মেয়ের কয়েকদিন পর সিজার হবে ১৫-১৭ থেকে ব্যাগ ও নেগেটিভ ব্লাড লাগবে,,,আমি আঙ্কেল এর কথা শুনে মুখের দিকে চেয়ে আছি কি বলে আঙ্কেল টা ১৫-১৭ ব্যাগ ব্লাড লাগবে সিজার করতে?
কিছুক্ষণ চুপ থেকে একটু হেসে বললাম আপনার ভুল হচ্ছে সিজার করতে এতগুলো ব্লাড লাগে না।
আঙ্কেল আপনার শুনতে ভুল হইছে হইতো, এই ভাবে বললাম আমি!!
আঙ্কেল টা তখন জোর দিয়ে আমায় বললো না বাবা ডাক্তার বলছে এত গুলো ব্লাডে লাগবে আমার মেয়ের কি যেনো সমস্যা,, না হলে আমার মেয়েকে নাকি বাঁচানো যাবে না
,এই ভাবে বললো আঙ্কেল টা..
কথা শুনে মনে হলো হয়তো সমস্যা না হলে তো ডাক্তার বলবে না!!
তার পর আমার ফোন নাম্বার আঙ্কেল এর ফোনে সেভ করে দিলাম, আঙ্কেল আমার সাথে যোগাযোগ রাখবেন, ইনশাআল্লাহ হয়ে যাবে একটা ব্যবস্থা।
নেগেটিভ ব্লাড ওই দিকেও আপনি ও চেষ্টা করেন যেখানে হোক ম্যানেজ করতে হবে,এই ভাবে কথা হলো।
আজকে (১২-০৯-২৩)
দিনাজপুর মেডিকেলে আপুটার সিজার হয় ফুটফুটে টুকটুকে এক সুন্দর বেবি উপহার দেয় আপুটা।
এর পরে শুরু হয় ব্লাডিং একের পর এক করে দিনাজপুর জেলা সকল সেচ্ছাসেবী ও রক্তযোদ্ধা ভাইবোনদের সহযোগীতায় যেখানে ১৫ ব্যাগ দেওয়ার কথা ছিলো, সেখানে ২৩ ব্যাগ (ও নেগেটিভ) ব্লাড দেওয়া হয় আপুটার শরীরে, ডাক্তার বলছিলো আরো লাগবে ,,,যেই ব্লাড টা ৩দিন ধরে একব্যাগ ম্যানেজ করা যায় না, সকলের পরিশ্রমে একের পর এক করে ম্যানেজ হতে থাকে।
আলহামদুলিল্লাহ
২৩ ব্যাগ দেওয়ার পরেও আমাদের সবার কাছে আরো ১০-১২ ব্যাগ ব্লাড রেডি ছিলো,,আরো লাগলে ডোনার এসে দিয়ে যাবে।
আমরা ব্লাড রেডি করছিলাম, একে ওকে, এই বন্ধু কে ওই বন্ধুকে, এই গ্রুপে ওই গ্রুপে,,যে যেইভাবে পারি।
এমন সময়…
রোগীর লোক ফোন দিয়ে বলে বাবা আর ব্লাড লাগবে না, তোমাদের বোন আর তোমাদের মাঝে নেই,,সত্যি কথাটা যে কতটা বেদনা দায়ক একজন সেচ্ছাসেবী বুঝে।
আমি ১০০% সিউর করে বলতে পারি দিনাজপুর জেলার সেচ্ছাসেবী ভাইবোন গুলো একটুও ব্লাড এর কমতি রাখে না,,রোগীর লোক কখনও বলতে পারবে না আমার মেয়ে টা ব্লাড এর অভাবে মা*রা গেলো।।আমাদের কাছে আরো ১০-১২ ব্যাগ ব্লাড রেডি ছিলো।
হাজারো লক্ষ কোটি স্যালুট জানাই দিনাজপুর জেলার সকল সেচ্ছাসেবী ভাইবোনদের।
সব আল্লাহর ইচ্ছেই হয়।সকলে আল্লাহর কাছে দোয়া করি আপুকে যেনো জান্নাতুল ফেরদৌস দান করে, এবং ছোট্ট বেবি টা ও তার পরিবার এর সকলকে ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক দান করে আমিন ।
আজ (বুধবার) ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১১ টায় কলি বেগমের জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন কার্য সম্পূর্ন হয়।
