
বিশেষ প্রতিনিধি
১৮৫৭ সালের ভারতবর্ষের ব্রিটিশ বিরোধী প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের স্মৃতি বিজড়িত এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কবি নজরুল কলেজ, সোহরাওয়ার্দি কলেজসহ প্রায় ১২ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীসহ পুরান ঢাকার মানুষের অবসর বিনোদন, অক্সিজেন গ্রহণ ও প্রাতঃভ্রমণ, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের একমাত্র স্থান ঐতিহাসিক বাহাদুর শাহ পার্ক।
প্রাণ -প্রকৃতি -পরিবেশে সমৃদ্ধ বাহাদুর শাহ পার্কের চারদিক এখন খাবার দোকান ও ভিক্ষুকদের দখলে। আবার পার্কের এই ছোট জায়গায় আছে রেস্তোরাঁ, যা পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে চলছে।
গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে রান্না করায় আগুনের তাপে গাছগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে এবং রান্না করা ময়লা, পানি ও ওয়ান টাইম প্লেট কাপ ফেলে রাখার ফলে হাটা চলা ব্যায়াম করার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
দিন রাত ২৪ ঘন্টায় এখানে চলে নেশাখোরদের আড্ডা। প্রকাশ্য দিবালোকে প্রশাসনের নজরের মধ্যেই নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করে অনেকেই।
বার্হদুর শাহ পার্ক এখন পথশিশু ও ভিক্ষুদের দখলে। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে যায়, পার্কে হাঁটাচলা করা ও বসার মোত সুষ্ট পরিবেশন আর নেই। তারা বলেন“ পার্কে আজকাল টোকাইদের অত্যাচারে বাসা ও হাটাচলা করা যায় না, তারা বিভিন্ন ধরনের উশৃংখল আচরন করে ও ভিক্ষা চায়.. টাকা না দিতে চাইলে তারা জামাকাপড় ধরে টানাটানি করে। বিভিন্ন সময় তারা নেশাগ্রস্ত হয়ে বিভিন্নভাবে মতলামি করে ”
এদিকে ঐতিহাসিক বাহাদুর শাহ পার্ক ও পার্কের ঐতিহ্য সংরক্ষণ সংগ্রাম পরিষদের ১৬ জন প্রতিনিধি মেয়র মহোদয়ের সাথে সাক্ষাৎ করে। প্রতিনিধিবৃন্দের পক্ষ থেকে পার্কের অভ্যন্তরে রেস্তোরাঁ বন্ধ, “১৮৫৭ সালের শহীদদের স্মরণে” লেখাটি পুনঃস্থাপন ও পার্কের নিরাপত্তার প্রয়োজনে পার্কের সীমানা বেষ্টনী দেওয়ার দাবি করা হয়। মেয়র মহোদয় ন্যায়সঙ্গত দাবিসমূহের যৌক্তিকতা স্বীকার করেন এবং পার্কের পরিবেশ বিনষ্ট হলে ইজারাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের ইজারা বাতিল করবেন বলে আশ্বাস দেন।