
মোহাম্মদ আনহার আলী মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি
সিলেট বন বিভাগের সুনামগঞ্জ রেঞ্জাধীন শক্তিয়ারখলা বিটের ঢুলারা বিজিবি ক্যাম্প এলাকা থেকে বিরল প্রজাতির একটি বনছাগল (রেড সেরো) লম্বায় ৪ ফুট, উচ্চতা ৩.৫ ফুট প্রানীটি স্থানীদের সহযোগীতায় উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। রেঞ্জকর্মকর্তা সুনামগঞ্জ ও বিট কর্মকর্তা শক্তিয়ারখোলা এটিকে উদ্ধার করে মিনি ট্রাকযোগে সিলেট বন বিভাগের বিভাগীয় কার্যালয়ে রাতে পাঠানো হয়। সেখান থেকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া রেসকিউ সেন্টারে হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার গভীর রাতে কমলগঞ্জের রাজকান্দি রিজার্ভ ফরেস্টের ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানায় মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, উদ্ধারকৃত ছাগলটি ‘আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিকসম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন)’-এ বিশ্বে বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী হিসেবে তালিকাভুক্ত। এ প্রজাতির বনছাগল দেশে বিরল। পুরুষ সেরো প্রায় ১২০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। ২০১৫ সালে আইইউসিএন বাংলাদেশের মূল্যায়ণ অনুযায়ী সেরো বাংলাদেশে বিপন্ন, বিশ্বব্যাপী সংকটাপন্ন। বাংলাদেশে দুই ধরনের সেরো থাকতে পারে, লাল সেরো আর ইন্দো–চায়নিজ সেরো। তবে এ নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
মৌলভীবাজারের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা মির্জা মেহেদী সরোয়ার জানান, স্থানীয় বন বিভাগের সবাই আমাকে প্রথমে জানায়। আমি তাদের বলি ছবি তুলে দেন। তারা ছবি তুলে দেওয়ার পর আমি মোটামুটি কনফার্ম হই এটা বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী বনছাগল হবে। তারপরও আরও একটু কনফার্ম হওয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুনতাসির আকাশ ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি আমায় জানান এটা এ বিশ্বে বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী হিসেবে তালিকাভুক্ত। এ প্রজাতির বনছাগল দেশে বিরল। তবে প্রথমে সবাই আমায় বলেছিল এটি হরিণের বাচ্চা।
মির্জা মেহেদী সরোয়ার আরও জানান, উদ্ধার হওয়া বনছাগল ছানাটি রেড সেরো। বাসস্থানের ক্ষতি এবং শিকারের জন্যে এ প্রজাতির বনছাগলের অস্তিত্ব পুরো পৃথিবীতে হুমকির মুখে। এ বনছাগলগুলো মুলত সন্ধ্যায় ও ভোরে খেতে বের হয়। দিনে লুকিয়ে থাকে, এদের দেখা বা কোনো ভাবে সম্ভব না। বাংলাদেশে অত্যন্ত বিপন্ন ও দুর্লভ প্রাণী।