
মো.হাসান ভূইয়া
বিশেষ প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ
হবিগঞ্জের, মাধবপুর উপজেলার রামপুর গ্রামের বাসিন্দা মোসাম্মৎ ফাতেমা বেগম (৪০)। দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে ৪ সদস্যের পরিবার তার। ৬ বছর আগে স্বামী হারিয়ে তিনি একাই সংসারের ঘানি টানছেন। অভাব-অনটন যেন তার নিত্যদিনের সঙ্গী। তন্মধ্যে মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুই সন্তানকে মোবাইল কিনে দেয়ার বায়না। বেশ কিছুদিন ধরেই জুনায়েদ (১৮) ও তার ছোট ভাই বাইজিদ (১৪) স্মার্টফোনে কিনে দেয়ার আবদার করে এসেছিল মায়ের কাছে।
তবে কিছুদিনের মধ্যেই ঘটে যায় এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা। ফাতেমা বেগমের ছোট ছেলে (বাইজিদ) স্মার্টফোন না পেয়ে আত্নহত্যার চেষ্টা করেছে বলে জানা যায়। এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফাতেমা বেগম ভোরের বাংলা নিউজকে বলেন, “গেছে মাসের শেষের দিকে একদিন সকাল বেলা বাইজিদ না খেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। সন্ধার দিকে ক্ষত-বিক্ষত অবস্থায় ফিরে এসে আমার কাছে মাফ মুক্তি চেয়ে চিরবিদায় চাইতে থাকে এবং সে আস্তে আস্তে নিস্তেজ হতে থাকে। এই অবস্থায় আমি অরে জিগাইলাম, বাপ তুই কিতা খাইসত? উত্তরে বাইজিদ বলে উঠলো, “মা আমি বিষ খাইছি”। এই কথা শুনে আমি লগে লগে এক প্রতিবেশীর কাছ থেইকা এক হাজার টাকা কর্জা কইরা মাধবপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়া গেছি। দ্রুত চিকিৎসা না নিলে আমার পোলারে হয়তো বাঁচানোই যাইতো না”।
অবশেষে চিকিৎসা সেরে বাড়িতে এসে একই প্রতিবেশীর কাছে বাড়ির এক-তৃতীয়াংশ ভূমি বিক্রি করে স্মার্টফোন কিনে দিয়ে দুই সন্তানের বায়না মিটিয়েছেন ফাতেমা বেগম।