
শাওন খন্দকার
( কবি- সাহিত্যিক এবং বিশ্লেষক )
একটা সময় ছিলো যখন সাহিত্যপ্রেমী মানুষেরা অমর একুশে বইমেলার জন্য অপেক্ষা করতো। ফেব্রুয়ারি মাস আসলেই বাংলা একাডেমির চত্বরে সাহিত্যিকদের মিলন মেলা বসতো। হুমায়ূন আহমেদ, ইমদাদুল হক মিলন এবং সমসাময়িক বড় বড় কবি সাহিত্যিকদের পদচারনায় বইমেলা মুখরিত হতো। বই এবং বিভিন্ন প্রকাশনীর স্টলগুলো তাদের কাঙ্খিত স্বার্থকতা খুঁজে পেতো। কিন্তু সময় পাল্টেছে, মানুষ এখন আর বই কেনা বা সাহিত্য চর্চার জন্য বইমেলায় আসে না। তাদের প্রধান উদ্দেশ্য বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে যাওয়া এবং সেলফিবাজি করা। আজকাল বইয়ের স্টলগুলোর চেয়ে বইমেলার আশেপাশের খাবারের দোকানগুলোতে বেশি ভিড় দেখা যায়। সাহিত্যজ্ঞান থাকুক আর না থাকুক সোসাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে কিছুটা জনপ্রিয় হলেই সেই হয়ে যায় লেখক। তাই আজকাল একুশে বইমেলা হয়ে গেছে ভাইরালদের আড্ডাখানা। আগে সাধারণ মানুষ বই কেনার জন্য বইমেলায় গেলেও আজকাল ভাইরাল ব্যক্তিদের দেখা এবং তাদের সাথে ছবি তোলাই যেনো তাদের মূল উদ্দেশ্য।
রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা কমিটির দাতা সদস্য খন্দকার মুশতাক আহমেদ ষাট বছর বয়সে একই কলেজের আঠারো বছরের ছাত্রী তিশাকে বিয়ে করে ভাইরাল হয়েছিলেন। তিনি এবার বইমেলায় তাদের সম্পর্ক নিয়ে দুইটা বই প্রকাশ করেছেন। যেটা রীতিমতো ভাইরাল হয়েছে। তাদের দেখার জন্য হাজার হাজার মানুষ বইমেলায় যাচ্ছে এবং তাদের সাথে সেলফি উঠছে। তাদের দুজনকে অনেক বিব্রতকর পরিস্থিতিতেও পড়তে হয়েছে।
করোনার ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত ডা. সাবরিনা জেল থেকে বের হয়েই রীতিমতো লেখক হয়ে গেছেন। এবার বইমেলায় তার প্রকাশিত একটা বইও প্রকাশিত হয়েছে। যে কেউই বই প্রকাশ করতে পারে, এটা তার ব্যক্তিগত অধিকার। কিন্তু গোটা জাতি যদি প্রতিভাবান লেখকদের মূল্যায়ন না করে ভাইরালের জোয়ারে গা ভাসায় তাহলে বুঝতে হবে আমাদের ভবিষ্যত অন্ধকার।
সত্যিকারের সাহিত্যিকরা সাহিত্য অঙ্গন থেকে বিতারিত। ভাইরাল নামক ভাইরাস আমাদের গোটা সমাজটাকে গ্রাস করে ফেলেছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের বাংলা ভাষা এবং শিল্প, সাহিত্য হুমকির মধ্যে পড়বে।