
নাজিরপুর প্রতিনিধি
প্রায় ১৭ বছর আগে বসত ভিটে নদীতে ভেঙে গেছে ৮৫ বছর বয়সী বকুল বেপারীর।স্হানীয় তালতলা নদী তাদের সব কেড়ে নিয়েছে।ফলে নদীর তীরে সেই ভাঙ্গনরত বসত ভিটায় ঝুপড়ি ঘরে মাথাগোঁজার ঠাঁই করে নিয়েছেন সে।
ভাঙা টিনের বেড়া, নারিকেল পাতাএবং পলিথিনে মোড়ানো ছোট্ট একটি ঘরে মানবেতর বসবাস এ পরিবারটির।
অভাবের পাশাপাশি ঝড়বৃষ্টি এবং শীতের সঙ্গে যুদ্ধ করে চলছে তাদের জীবন সংগ্রাম।
মানুষের কাছে হাত পেতে কোনমতে চলে বকুল বেপারীর সংসার । তাই কোথাও ঘর করার মতো ব্যবস্থা নেই তাদের।
বকুল বেপারী একটি ছেলে ও একটি মেয়ে ছিল, তারাও অকালে মৃত্যুবরণ করেন । স্বামীকে হারিয়েছেন বহু বছর আগে।এখন তার রয়েছে শুধুমাত্র পুত্রবধু ও দুটি নাতনি। কিন্তু তাদের থাকার মতো ছোটো ওই ঘরে নেই পর্যাপ্ত জায়গা।
বকুল বেপারী পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার ৪ নং দীর্ঘা ইউনিয়নের ঠুটাখালী গ্রামের বাসিন্দা ।
সরেজমিনে বকুল বেপারীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা এ ঘরটিতে বসবাস করে আসছে।
প্রায় ১৭বছর আগে নদীতে ভিটেমাটি হারিয়ে গেলে নদীর কুলে একটি ঝুপড়ি ঘর বানিয়ে কোনমতে বসবাস করছেন তারা।
তিনি বলেন, ছোট্ট এ ঘরে চারজন থাকার মতো অবস্থা নেই। নাতনীরা বড় হচ্ছে, তাদের জন্যেও আলাদা ঘর প্রয়োজন। এছাড়া ঝড়বৃষ্টি এবং শীতে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বৃষ্টিতে পানি ঢুকে। আর নদীর শীতল বাতাসে শীতে অনেক কষ্ট করে থাকতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমাদের সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আর কেউ নেই। কোনভাবে ডাল-ভাত খেয়ে জীবন পার করছি। ঘর করার মতো কোন অর্থ নেই। এখন যেখানে বসত ঘরটি আছে , এ জায়গাও নদীতে ভেঙে যাবে। তখন অন্যকোন জায়গা বেচে নিতে হবে। এ পর্যন্ত তেমন কোন সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পাইনি। একটা ঘর পেলে নাতনি দুটাকে ও পুত্রবধূকে নিয়ে বাকি জীবন পার করতে পারতাম।
বাসুদেব নামে স্থানীয় নরসুন্দর বলেন, তাদেরকে এ ছোট ঘরে কষ্ট করে বসবাস করতে দেখে আসছি। স্থায়ীভাবে তাদের বসবাসের তেমন কোন জায়গা নেই। যদি সরকারি সহায়তায় একটি ঘর পেত তাহলে শেষ বয়সে এসে হলেও একটু মাথা গোজার ঠাঁই হতো।
এ বিষয়ে ৪নং দীর্ঘা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশুতোষ বেপারি বলেন,যারা গৃহহীন আছে তাদের জন্য গৃহ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। সেক্ষেত্রে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি ওনাকে গৃহ দেওয়ার জন্য।