
টাংগাইল জেলা প্রতিনিধি
রাহিদ রানা
টাংগাইলের কালিহাতীতে অবৈধ দেশি- বিদেশি ওষুধের রমরমা বাণিজ্য, নামি-দামি ফার্মেসির পাশাপাশি ব্যক্তি মালিকানাধীন বিভিন্ন ফার্মেসিতেও চলছে অবৈধ পন্থায় বিদেশ থেকে আনা হার্ট, কিডনি ও ক্যান্সার, সেক্সুয়াল সহ বিভিন্ন জঠিল রোগের অনুনমোদিত ওষুধের রমরমা বাণিজ্য। রোগীদের স্বাস্থ্যসেবার কথা চিন্তা না করেই ওষুধ প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে অতি মুনাফালোভী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো অবৈধ ওষুধের এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন উপজেলার বল্লা বাজারে মা ফার্মেসিতে।
গত (২ জুলাই) বিকেলে জেলা ঔষধ প্রশাসন কার্যালয়ের কর্মকর্তা অভিযানে চালিয়ে অনুনমোদিত এমন ওষুধ বাণিজ্যের সন্ধান পায়। এসময় মা ফার্মেসিতে বিভিন্ন ধরনের দেশি-বিদেশি নিষিদ্ধ ঔষধ সহ মেদোত্তীর্ণ অনেক ঔষধ মজুদ পাওয়া যায়। জেলা ঔষধ প্রশাসন কার্যালয়ের কর্মকর্তা
পক্ষ থেকে মা ফার্মেসির মালিক মোশাররফ হোসেনকে প্রাথমিক অবস্থায় ভেজাল ওষুধ বিক্রি থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করে যান। কিন্তু কাউকে কোন গুরুত্ব না দিয়ে দেদারছে চালিয়ে যাচ্ছেন এ ধরনের ভেজাল ওষুধ বিক্রি।
সরজমিনে দেখা যায়, সেখানে পাওয়া যাবে না এমন ওষুধ নেই বললেই চলে বলে জানেন রোগীরা। ওষুধের মহাসমারোহ দেখা গেলেও প্রতিষ্ঠানটির এসব ওষুধের মধ্যে রয়েছে অবৈধ পন্থায় বিদেশ থেকে আনা অনুনমোদিত হার্ট, কিডনি ও ক্যান্সার, সেক্সুয়াল
সহ বিভিন্ন জঠিল রোগের ওষুধ।
মা ফার্মেসিতে ঔষধ ক্রয় করতে আসা উপজেলার নাগবাড়ী এলাকার কাশেম মন্ডল বলেন, আমি এই দোকান থেকে নিয়মিত হার্টের ওষুধ কিনে নেই, সকল দোকানের চেয়ে দামও কম রাখে।
সখিপুর উপজেলার কালিয়ান এলাকার নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, আমার স্ত্রীর জন্য বল্লা বাজারে মা ফার্মেসি থেকে কয়েকবার তরল ঔষধ নেওয়া হইছে কোন কাজ হয় নাই। দোকানে এসে এবিষয়ে জানাতে চাইলে তিনি আমার সাথে দুর্ব্যবহার করেন।
বল্লা বাজারের একাধিক ঔষধের দোকান মালিকরা জানান, মা ফার্মেসিতে বেশির ভাগ ঔষধ নকল এবং মেয়েদের সন্তান হওয়ার জন্য সিরাপ জাতীয় ঔষধ নিজেই তৈরী করে কম দামে বিক্রি করে। এধরনের ঔষধ অনেক দিন সেবন করে কোন কাজে আসে না।
মা ফার্মেসির মালিক মোশাররফ হোসেন এবিষয়ে বলেন, শুধু আমার দোকানেই মেয়াদ উত্তীর্ণ এবং বিদেশি ঔষধ নয় বল্লা বাজারে সকল দোকানেই পাবেন এধরনের ঔষধ। তিনি আরো জানান গাইনি ডাক্তাররা যে ঔষধ লিখেন পারলে তাদের বন্ধ করেন।
বল্লা বাজার বণিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ বলেন, ভেজাল ঔষধ নিয়ে মানুষের সাথে প্রতারণা এটা মেনে নেওয়ার মত নয়। আমি বণিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে ঔষধ প্রশাসনের নিকট অনুরোধ করবো, ভেজাল ঔষধ বিক্রি করে সেই দোকান মালিকের বিরুদ্ধে আইন ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
বল্লা বাজার বণিক সমিতির সহ- সভাপতি বল্লা বাজার ক্যামিস্ট ও ড্রাগিষ্ট সমিতির সভাপতি
মো. ফারুক হোসেন জানান, আমি এবং বণিক সমিতির সভাপতি আবু তালহা না থাকলে মা ফার্মেসির জেল জরিমান হতো সেই সাথে সকল ঔষধ নিয়ে যেত। আমার সমিতির পক্ষ থেকে ভেজাল এবং নকল ঔষধ বিক্রির জন্য তার বিচার হওয়া উচিত।
বল্লা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আবু তালহাকে বার বার ফোন দেওয়া হলে ফোন রিসিভ করেনি।
জেলা ঔষধ প্রশাসন কার্যালয়ের কর্মকর্তা মিঠুন সাহা এবিষয়ে জানান, আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বল্লা বাজারে মা ফার্মেসিতে বেশ কিছু ঔষধ মেয়াদ উত্তীর্ণ, দেশি-বিদেশি অনুনমোদিত ঔষধ পাওয়া যায়। এসময় দোকান মালিকে প্রাথমিক অবস্থায় তাকে সতর্ক করা হয়, সেই সাথে অফিসে আসতে বলা হয়েছে। এর পরে মা ফার্মেসিকে শোকজ করবো এবং মামলাও হতে পারে।
একটি সূত্রে জানাযায়, জেলা ঔষধ প্রশাসন কার্যালয়ের কর্মকর্তা মিঠুন সাহা গত ৬ মাস আগে যোগদান করার পর থেকে বিভিন্ন বাজারে ঔষধ ব্যবসায়ীদেরকে দোকানে এসে যে কোন ঔষধ জব্দ করা হয়। দোকানে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে অফিসে ঢেকে নিয়ে তাদের সাথে হয়রানি করা হয়।