
ভোরের বাংলা নিউজ ডেস্ক
আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের পর এবার এম পক্স ছড়িয়েছে এশিয়াতেও। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা যায়, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে এম পক্স ভাইরাস ভয়ংকর ভাবে ছড়িয়ে গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশ্বজুড়ে জরুরি স্বাস্থ্য অবস্থা জারি করেছে। গত বুধবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এ জরুরি অবস্থা জারি করেন। সংস্থাটির মহাসচিব জানান, এম পক্স ভাইরাসের কারণে মৃত্যুর হার উচ্চপর্যায়ে রয়েছে যে কারণে গবেষকরা গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সেজন্য আমরা গত দু’বছরের মধ্যে দ্বিতীয় বারের মতো আবারো জরুরি স্বাস্থ্য অবস্থা সতর্কতা জারি করলাম।
এদিকে জানা যায়, এম পক্স ভাইরাস প্রথমে শরীরের চামড়ায় দেখা যায় ক্ষত। এরপর বিদ্যুৎ গতিতে ছড়িয়ে পড়ে সংক্রমণ। তাছাড়া,
এমপক্সে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীরে প্রায়শই একটি ফুসকুড়ি হয় যা হাত, পা, বুক, মুখ বা মুখের কাছে বা যৌনাঙ্গের অঞ্চলের কাছাকাছি থাকতে পারে। ফুসকুড়ি অবশেষে নিরাময়ের আগে পুস্টুলস অথবা পুঁজে ভরা বড় সাদা বা হলুদ পিম্পল এবং স্ক্যাব গঠন করে। এছাড়াও হতে পারে জ্বর, মাথাব্যথা ও মাংসপেশিতে ব্যথা। ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার চেষ্টা করার সাথে সাথে লিম্ফ নোডগুলিও ফুলে উঠতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে, একটি সংক্রমণ মারাত্মক হতে পারে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি লক্ষণগুলি শুরু হওয়ার সময় থেকে ফুসকুড়ি পুরোপুরি নিরাময় না হওয়া পর্যন্ত এবং ত্বকের একটি নতুন স্তর তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এটি অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারে।
ইউএনবির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ডব্লিউএইচওর তথ্যানুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত মাঙ্কি পক্সে আক্রান্তের সংখ্যা গত বছরের মোট সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে, ১৪ হাজারের বেশি আক্রান্ত হয়েছে। এই রোগে এখন পর্যন্ত ৫২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা যায়, পাকিস্তানে গত শুক্রবার মারাত্মক এমপক্স ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত করেছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছে। ডব্লিউএইচও বিশ্বব্যাপী এমপক্স বিস্তারের বিষয়ে জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা অবস্থা ঘোষণা করার পর দেশটিতে এই প্রথম সংক্রমণটি শনাক্ত হয়। এ বিষয়ে পাকিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ভাইরাসটির স্ট্রেইন বা প্রজাতি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং আক্রান্ত ব্যক্তি উপসাগরীয় দেশ থেকে এসেছেন।
উল্লেখ্য, এম পক্স একটি ভাইরাল অসুস্থতা যা মাঙ্কিপক্স ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট, গোত্রের একটি প্রজাতি অর্থোপক্সভাইরাস। ১৯৫৮ সালে বানরদের মধ্যে ‘পক্সের মতো’ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে বিজ্ঞানীরা প্রথম এই ভাইরাস শনাক্ত করেন। বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার লোকদের মধ্যে দেখা গেছে যারা সংক্রামিত প্রাণীর সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ করেছিল। এমপক্স গুটিবসন্তের মতো ভাইরাসের একই পরিবারের অন্তর্গত তবে হালকা লক্ষণ সৃষ্টি করে। এমপক্সে সংক্রমিত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে মাঙ্কিপক্স ভাইরাস অন্যজনের শরীরে সংক্রমিত হয়ে থাকে। এমন সংস্পর্শের মধ্যে রয়েছে, শারীরিক সম্পর্ক, ত্বকের স্পর্শ, কাছাকাছি থেকে কথা বলা বা শ্বাসপ্রশ্বাস এর মাধ্যমেও ছড়িয়ে থাকে। ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশ করে ভঙ্গুর ত্বক, শ্বাসপ্রশ্বাস, চোখ, নাক বা মুখের মধ্য দিয়ে। এ ছাড়া ভাইরাস লেগে আছে এমন বস্তু, যেমন বিছানাপত্র, জামাকাপড় স্পর্শ করেও ছড়িয়ে পড়তে পারে এই ভয়ংকর ভাইরাস।