
রূপগঞ্জ ঃ “মাছে ভাতে বাঙ্গালী এ প্রবাদ বাক্যটি এখন বইয়ের পাতায়ই দৃশ্যমান। আর সেটা যদি হয় জাতীয় মাছ ইলিশ, তা হলে তো কথাই নেই। এক সময় বাংলার ঘরে ঘরে বছরের এ সময়টায় ইলিশের দেখা মিললেও ভরা মৌসুমে ইলিশ যেন সোনার হরিণ। মাছে ভাতে বাঙ্গালী হলেও ইলিশ এখন বড় লোকের খাবার” বাজারে মাছ কিনতে আসা আসলাম মিয়া এসব কথা বলেন।
মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে ইলিশ মাছ। আর নিন্মবিত্তের জন্য ইলিশ এখন স্বপ্নময় সোণার হরিণ। এক সপ্তাহ বেশ কয়েকটি মাছের আড়ত, পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া গেছে মাছের দাম বৃদ্ধির পেছনের বেশ কয়েকটি কারণ। দাম বৃদ্ধির পেছনে সক্রিয় আছে সিন্ডিকেট। বাজার মনিটরিং না থাকায় মাছ বিক্রেতারাও ইচ্ছেমতো ইলিশের দাম বাড়াচ্ছেন।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই বিশ্বের বেশির ভাগ ইলিশ আহরণকারী দেশ বাংলাদেশ। একসময় সুস্বাদু এ মাছটি দেশের মানুষের নাগালের মধ্যে থাকলেও কয়েক বছর ধরে অতিরিক্ত দামের কারণে ইলিশ এখন সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। সাধারণত ইলিশের ভরা মৌসুম থাকে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর। এবার ভরা মৌসুমেও সাধারণ মানুষ দামের উত্তাপে মাছটি পাতে তুলতে পারছে না।
মুড়াপাড়া বাজারে কথা হয় জাহাঙ্গীর মাস্টারের সাথে। তিনি বলেন, মাছ কিনতেই আইছিলাম। মাছের যে দাম, তাতে দেখেই শান্তি, খাওয়ার স্বাদ মিটে গেছে। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির এ বাজারে ইলিশ যেন স্বপ্নময় সোণার হরিণ, যা শুধু দেখেই যেতে হবে, কেনা বা খাওয়া সম্ভব না। দুধের স্বাদ গোলে মিটাই, পাঙ্গাসেই জীবন বাঁচাই। শিপলু জাহান শান্ত বলেন, একটা ইলিশ ২৫শ’ টাকায় কিনলাম। এখন আর বাজার কিভাবে করব, সেটাই ভাবছি।
মাছ বিক্রেতা আলমাছ মিয়া বলেন, আমরা কি করব স্যার, বেশি দামে কিনি, কিছু লাভ তো করতেই অইব। তা না অইলে বউ পোলাপান লইয়া খামু কেমনে। সব জিনিষেরই দাম বেশি। আমাগোও তো কিনা খাইতে হয়। কি করুম , কন। ১ কেজি বা এর বেশি সাইজের ইলিশের পাইকারি দাম ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা; যা বাজারে পরে ১৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। এরপর ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশের পাইকারি দর ৯০০ থেকে ১১০০ টাকা; যা পরে খুচরা বাজারে ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের পাইকারি দাম ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং খুচরায় ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি। জাটকা বা ছোট সাইজের ইলিশ পাইকারি ৫০০ এবং খুচরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।
অর্ন্তবর্তী সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এবার প্রথমে ভারতে ইলিশ রপ্তানি হবে না বলে জানালেও পরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেয়। মাছ বিক্রেতার অনেকেই ইলিশের দাম বাড়ার জন্য ভারতে রপ্তানির যুক্তি তুলে ধরেন।
ইলিশ মাছের বাজারের উচ্চমূল্যের জন্য কেউ কেউ সিন্ডিকেটকে দায়ী করছেন। আড়তে আসা ইলিশ যাচ্ছে ফ্রিজিং করে মজুতদারদের ঠান্ডা গুদামে। এর সঙ্গে সক্রিয় আছেন মুনাফাখোর সিন্ডিকেটের সদস্যরা। ইলিশের দাম কেমন হবে তা সকালে নির্ধারণ করে দেয় মোকাম ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। বিক্রি না হলে তা ফ্রিজিং করে রাখা হয়।
ভরা মৌসুমের পরও বাজারে ইলিশের অতিরিক্ত দামের জন্য সম্প্রতি অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এতে দেখা যায়, আড়তদারদের কাছ থেকে দেড় হাজার টাকায় কেনা ইলিশ বিক্রেতারা ভোক্তার কাছে বিক্রি করছেন ২ হাজার ২০০ টাকায়। অর্থাৎ একটি ইলিশেই ৭০০ টাকা পর্যন্ত লাভ করছেন ব্যবসায়ী।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মৎস্য ব্যবসায়ী জানান, বেশি দামে কিনি, তাই দামে বেচি, আমাগো কিছু করার নাই গো বাজান। একবার লোকসান হলে পরবর্তী ট্রিপে সে টাকা ওঠানোর চেষ্টা করার ফলে দাম চড়া হয়। দু-তিন বার কোনো কোনো ক্ষেত্রে চারবার হাতবদলের ফলে দাম তো বাড়বেই।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের বাজার মনিটরিং টিম সক্রিয় আছে, অব্যাহতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।বিভিন্ন হাত বদল হয়ে মাছের আসে রূপগঞ্জে। সিন্ডিকেটের কারনে মাছের দাম বেশি। ###