
ঝালকাঠি প্রতিনিধি :
বরগুনা ও ঝালকাঠি জেলার পাথরঘাটা-বামনা-কাঁঠালিয়া-রাজাপুর আঞ্চলিক সড়ক ৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ। এর প্রায় ৩৭ কিলোমিটারের মধ্য বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলে খানাখন্দে কাদাপানি একাকার হয়ে যায়। ব্যাহত হয় যানবাহন চলাচল।
গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে পাশের বিভিন্ন জেলার গাড়ী ও মালামাল পরিবহন হয়ে থাকে।বিষ খালি নদীতে ফেরী থাকায় বরগুনা পটুয়াখালী কুয়াকাটা অঞ্চলের বিভিন্ন পন্যবাহী ও যাত্রীবাহী পরিবহন অনায়াসে যাতায়াত করে থাকে। এই সড়ক দিয়ে নদী পার হয়ে যশোর বেনাপোল বাগেরহাট খুলনার গাড়িগুলো অনায়াসে যাতায়াত করে বরগুনা পটুয়াখালী কুয়াকাটা বন্দরের সাথে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের বরগুনা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ সড়কের বরগুনা অংশে রয়েছে ৪৪ দশমিক ৩ কিলোমিটার।ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর কাঠালিয়া অংশে জায়গায় সড়কে ফাটল ধরেছে। পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত হয়েছে। বিশেষ করে রাজাপুর উপজেলার মীরের হাটের পর থেকে পুটিয়াখালী,চড়াইল,গাজীরহাট,কাঠালিয়া অংশের আকনের হাট,সাতানী,মুন্সিরাবাদ থেকে মনস্বিতা মহিলা কলেজ পর্যন্ত অবস্থা খুবই বেহাল।আবার কোথাও বড় বড় গর্ত, পিচ উঠে মাটি বের হয়ে এসেছে।রাস্তার পাশ ভেংগে অনেক স্থানে রাস্তা সরু হয়ে গিয়েছে। অনেক জায়গাতে স ও জ কর্তৃপক্ষ ইট সুড়কি দেয়া মেরামতের চেষ্টা করলেও বাস্তবে তা কাজে আসছেনা।এ অংশ যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন আন্তজেলা বাস,কাভার্ড ভ্যান,পন্যবাহী যানবাহন রিকশা, ইজিবাইক, ভ্যানসহ অন্য যানবাহনও চলাচল করে। পাথরঘাটার মৎস্য অবতরণকেন্দ্র থেকে প্রতিদিন অনেক ট্রাক মাছ নিয়ে দেশের নানা স্থানে যায় এই সড়ক ধরে।কুয়াকাটা বরগুনা থেকে বিষখালী নদীর ফেরী পার হয়ে বরিশাল খুলনা যশোর অঞ্চলে মালামাল পরিবহনে ট্রাক চলাচল করে থাকে এই সড়কে। অনেকেই বাধ্য হয়ে পাশের উপজেলার ভান্ডারিয়া সড়ক ব্যবহার করেন।এতে অর্থ ও সময় দুটোই অপচয় হচ্ছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর,সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতায় ১২৫ কোটি টাকা ব্যায়ে প্রায় ৩৬ কিলোমিটার সড়কের সমাপ্তকৃত কাজের ১৮মার্চ,২০২৩তারিখে উদ্বোধন করেন ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ বজলুল হক হারুন।যদিও ঠিকাদার কর্তৃক নিম্ন মানের কাজ করার কারনে অচিরেই রাস্তার বেহাল দশা প্রকাশ পায়।
বিভিন্ন স্থানে খানখন্দ ও রাস্তা ভেঙে খালে পড়ে সংকীর্ণ হয়ে যাওয়ায় ঝালকাঠির রাজাপুর-কাঠালিয়া সড়কে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বাসসহ ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে এ অঞ্চলের হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে টেম্পো, নছিমন, করিমন, অটোরিকশা কিংবা মোটরসাইকেলে যাতায়াত করছে। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
রাস্তার দুরবস্থার জন্য উল্টো পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলা ঘুরে যাতায়াত করে থাকে যানবাহনগুলো।জেলা সদর থেকে কাঠালিয়া উপজেলায় বিভিন্ন জায়গায় যেতে সরকারী কর্মকর্তারাও পাশের জেলা ভান্ডারিয়া সড়ক ব্যবহার করে থাকেন।
বর্ষা ও শীতে নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থী, রোগী ও যাত্রীরা। অন্যদিকে পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
যাত্রী, চালক ও স্থানীয়রা বলছেন, রাজাপুর-কাঠালিয়া সড়কে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় এ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রোগী ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে টেম্পো, নছিমন, করিমন, আটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা সঠিক সময়ে ক্লাসে যেতে পারছে না। বিপাকে পড়েছেন চাকরিজীবীরাও। বর্ষার দিনে এ ভোগান্তির মাত্রা বেড়ে যায় কয়েকগুণ।
এ ছাড়া ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এসব গাড়ি বিভিন্ন যন্ত্র নষ্ট ও ভেঙে রাস্তায় বিকল হয়ে পড়ছে। সড়ক বিভাগের লোকজন মাঝে মধ্যে সড়কের একেক অংশ সংস্কার করলেও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করায় এ সমস্যার সমাধান হচ্ছে না বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। এ ছাড়া ভাঙা স্থানে দায়সারাভাবে ইট-খোয়া ও পাথর ফেলে রাখায় হাঁটাও কষ্টের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়
এক বছর আগেও ঝালকাঠির রাজাপুর-কাঁঠালিয়া-আমুয়া সড়কের ১৫ থেকে ২০টি বাস নিয়মিত চলাচল করত। রাজাপুর উপজেলা থেকে কাঁঠালিয়া উপজেলা ও এই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান বন্দর আমুয়া বন্দরে যাতায়াতের সহজতম রুট এটি।
যাত্রীরা কম খরচে বাস যোগে প্রতিদিন চলাচল করতেন। পাশাপাশি আমুয়া বন্দর থেকে ট্রাকে পণ্য বহন করা হত। কিন্তু ঝালকাঠির এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। রাস্তা ভেঙে খালে পড়ে সংকীর্ণ হয়ে যাওয়ায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বাসসহ ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
ফলে এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে টেম্পু, নছিমন, করিমন, আটোরিক্সা কিংবা মোটরসাইকেলে যাতায়াত করছে। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। বর্ষা ও শীতে নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থী, রোগীসহ সাধারণ যাত্রীরা। অন্যদিকে রাস্তায় খানা খন্দক থাকায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঝালকাঠির রাজাপুর-কাঁঠালিয়া-আমুয়া সড়ক দিয়ে প্রতিদিন দক্ষিণাঞ্চলের ঝালকাঠি, রাজাপুর, কাঁঠালিয়া, আমুয়া, বামনা, পাথরঘাটা, ভান্ডারিয়া, মঠবাড়িয়া ও বরগুনাসহ ঘোটা দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক হাজার যাত্রী যাতায়াত করে।
রাস্তা বাস চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় চলছে অটোরিকশা নসিমন।
তারা জানান, এই সড়কের রাজাপুর-কাঠালিয়ার-আমুয়া ৩৭ কি.মি. অংশে বিভিন্ন যায়গায় বড়বড় গর্ত ও খানাখন্দক তৈরি হয়েছে। কয়েকটি স্থানের সড়ক ভেঙে খালে পড়ে গেছে। এতে রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে গেছে। ফলে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া হয়ে ঘুর পথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করতে হচ্ছে।
যাতে অর্থ এবং সময়ের অপচয় হচ্ছে। এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে জেলার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বন্দর আমুয়ার ব্যবসায়ীরা। সড়কের নির্মাণ কাজ ও সংস্কারে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
মীরের হাট এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি আব্দুস সালাম হাওলাদার বলেন, ‘সড়ক বিভাগের লোক দায়সারাভাবে মেরামত করে চলে যায় আর ভোগান্তিতে পড়তে হয় আমাদের। সঠিকভাবে মেরামত করা হলে এখনো রাস্তার কিছু হত না। রাজাপুর-কাঠালিয়া সড়কে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় এ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রোগী ও দূর-দূরন্ত থেকে আসা যাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে টেম্পু, নছিমন, করিমন, আটোরিক্সা কিংবা মোটরসাইকেলে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে।’
স্থানীয় এক স্কুলের শিক্ষক এনামুল হক বলেন, ‘রাস্তা খারাপ হওয়ায় এক বছরের বেশি সময় ধরে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর ফলে আমারা অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে প্রতিদিন বিকল্প পরিবহনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছি। দ্রুত এই সড়কটি সংস্কার করা দরকার।’
রাস্তার দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে
ঝালকাঠি সওজ এর উপ- সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মাসুকুর রহমান বলেন,’ ভারী ট্রাক যানবাহন চলায় ও বর্তমানে বৃষ্টির কারনে রাস্তা বেশী খারাপ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।রাস্তাটি তারা ইন্সপেকশন করে প্রস্তাবনা আকারে পাঠিয়েছেন।সরকারী বরাদ্দ না আসলে পুরো রাস্তার সংস্কার কাজ করা সম্ভব না।আপাতত সংস্কার করে রাস্তা চলাচলের উপযোগী রাখা হচ্ছে।’