
নজরুল ইসলাম লিখন, রূপগঞ্জ ঃ “পূর্বাচলের বাণিজ্য মেলায় বাসা মানে ভাল না হলেও ভাড়া অনেক বেশি। তাও আবার পাওয়া যাচ্ছে না। পূর্বাচলের প্রথম থেকেই এ অবস্থা বিরাজ করলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এতে আমাদের মত ব্যবসায়ীদের প্রভূত ক্ষতি হচ্ছে। লাভের গুড় মাক্ষি খাচ্ছে। একে তো ভাল বেচাকিনি নেই, তারওপর বাসা ভাড়াসহ সব কিছুর দাম বেশি। এ তো মরার উপর খাঁড়ার গাঁ এর মত অবস্থা। ” এভাবেই মনের ক্ষোভ ঝাড়লেন বাণিজ্য মেলায় আগত ব্যবসায়ি আব্দুর রহিম শেখ।
রহিম শেখের মত একইভাবে বলেন আল সামস্ । তিনি বলেন, চার বছর হয়ে গেল এখানকার মেলার। ভাল মানে বাসা ভাড়া পাচ্ছি না। যাও পাওয়া যায় তার ভাড়া হাঁকেন বেশি। ঢাকায় মান সম্মত বাসা পেতাম উপযুক্ত দামে। ঢাকার মত বেচাকিনি হয় না এখানে। পরের বার ভাল হবে এ আশায় প্রতি বছরই আসি। কিন্তু সমস্যার সমাধান হয় না। আশা করব কর্তৃপক্ষ খুব দ্রুত বাসা ভাড়ার সমস্যার সমাধান করবেন।
পূর্বাচলে বাণিজ্য মেলার শুরু থেকেই আবাসন সস্কট দেখা দিয়েছিল। এবারও মেলায় অংশগ্রহনকারীরা ভাল মানের বাসা পাচ্ছেন না। যা ও পাচ্ছেন তার ভাড়া বেশি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আর্ন্তজাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহনকারী দোকান মালিক কর্মচারীরা। হুমায়ুন কবির নামের এক স্টল মালিক বলেন, এবছর এক মাস থাকার জন্য ভাল মানের বাসা পাইনি। যাও পেয়েছি তার ভাড়া অনেক বেশি। এ রকম অভিযোগ বাণিজ্য মেলায় আগত সকল স্টল প্যাভিলিয়ন মালিকদের।
এদিকে বাড়ির মালিকরা বলেন, আমাদের এখানে সারা বছর ভাড়া চলে না। পূর্বাচলে এখনও ঠিকঠাক মতো বসতিই গড়ে ওঠেনি। এক মাসের জন্য ভাড়া দিতে গিয়ে আমাদের নতুনভাবে অবকাঠামো পরিবর্তন করতে হয়। রান্না ঘর, টয়লেটসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিদা দিতে হয়। এসব কারণে হয়তো ভাড়াটা একটু বেশি মনে হতে পারে। বছরের এ সময়টায় তাদের জন্য আমাদের খরচ করতে হয়। তাছাড়া সারা বছর খালিই পড়ে থাকে।
রাজধানীর পূর্বাচলের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে চতুর্থ বারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। এর আগে আগারগাঁওয়ে শেরেবাংলা নগর মাঠে এই মেলা অনুষ্ঠিত হতো। এখন পূর্বাচলে হওয়ায় মেলায় অংশগ্রহণকারী স্টল, মিনি প্যাভিলিয়ন ও প্যাভিলিয়নের মালিক-কর্মচারীদের আবাসন সমস্যা হচ্ছে। পূর্বাচল উপশহর এখনো গড়ে উঠেনি। ফলে বাণিজ্য মেলার সময় আশপাশের এলাকায় বাড়িভাড়ার জন্য বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়।
বাণিজ্য মেলার পার্শ্ববর্তী গ্রাম গোয়ালপাড়া, ফুলবাড়িয়া, দক্ষিণবাগ, হিরনাল, কালনী, ইউসুফগঞ্জ, শিমুলিয়া, গুতিয়াবো, বেইলারটেক, মধুখালী, পিতলগঞ্জ, কেয়ারিয়া, হারিন্দা, বাঘবেড়সহ আশপাশের এলাকায় মেলার স্টল মালিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চড়া মূল্যে ভাড়ায় থাকতে হচ্ছে। সুযোগ পেয়ে বাড়ির মালিকরাও বেশি ভাড়া আদায় করছেন।
মেলার আগে যে ফ্ল্যাটের ভাড়া ছিল ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে। সেই ফ্ল্যাটে এখন ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় ভাড়া হচ্ছে। তা-ও পরিচিত ব্যক্তির সুপারিশ ছাড়া ভাড়া মিলছে না। স্টল ও প্যাভিলিয়নের বরাদ্দপত্র নিয়ে নিশ্চিত হয়েই বাড়ির মালিকরা ফ্ল্যাট বাসা ভাড়া দিচ্ছেন।
হাতিল ফার্নিচারের সহকারী ব্যবস্থাপক জহিরুল ইসলাম বলেন, পূর্বাচল উপশহরের ঘরবাড়ি নির্মাণ হয়ে গেলে এ সংকট থাকবে না। দিল্লি অ্যালুমিনিয়ামের বিক্রয় প্রতিনিধি শ্রী রমেশ কান্ত সরকার বলেন, ঢাকা থেকে ভোরে মেলায় আসা ও রাতে বাসায় ফিরে যাওয়া কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তাই তুলনামূলকভাবে ভাড়া একটু বেশি হলেও মধুখালী এলাকায় তাদের প্যাভিলিয়নের অনেকেই বাসাভাড়া নিয়েছেন।
কাশ্মীরি শীতবস্ত্র স্টলের মালিক নিতাই চক্রবর্তী বলেন, শিমুলিয়া এলাকায় দুই কক্ষের একটি ফ্ল্যাট বাসা তিনি ৩৩ হাজার টাকায় ভাড়া নিয়েছেন। তিনি বলেন, এ বছর স্টল, মিনি প্যাভিলিয়ন ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ মূল্য অনেক বাড়ানো হয়েছে। বেড়েছে কর্মচারীদের বেতনও। সব খরচের পর মেলা করে আর্থিকভাবে কতটা লাভবান হওয়া যাবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে তিনি লাভের আশাবাদী।
বাঘবেড় এলাকার খলিল মিয়া বলেন, পূর্বাচল উপশহরের প্লটে ঘরবাড়ি নির্মাণ হলে আবাসনসংকট থাকবে না। এছাড়া সারা বছর আমাদের ফ্ল্যাট খালি থাকে। সারা বছরের বাড়ির খরচ মেটানোর জন্যই মেলার সময় বাড়িভাড়া কিছুটা বেশি নেওয়া হয়। বাড়ি ভাড়া বেশি নিলেও ভাড়াটিয়াদের সব সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য আমরা চেষ্টা করি।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সচিব বিবেক সরকার বলেন, পূর্বাচলে আবাসন ব্যবস্থা এখনও ওইভাবে গড়ে ওঠেনি। আশা করছি দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। ৩০০ ফুট সড়ক নামে পরিচিত ঢাকা-কুড়িল-কাঞ্চন সড়কের নির্মাণকাজ শেষ করা হয়েছে। সৌন্দর্য ও মনোমুগ্ধকর এ সড়কে চলাচল এখন আরামদায়ক। মাত্র ১৫ মিনিটে ঢাকার কুড়িল থেকে বাণিজ্য মেলাপ্রাঙ্গণে আসা যায়। পূর্বাচল উপশহরের অভ্যন্তরীণ সড়কও চলাচলের উপযোগী। সে কারণে এবারের বাণিজ্য মেলা দিনদিন জমে উঠছে।#####