
পাটগ্রাম প্রতিনিধি
পানির অভাবে আমন ধানের চারা রোপন করতে না পেরে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার কৃষকরা পড়েছে লক্ষ্যভ্রষ্ট।
দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় প্রভাব পড়েছে আমন চাষে। বাংলা বছরের আষাঢ় মাস শেষ,তবুও দেখা মিলছে না কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির।
ঠিক সময় আমন চারারোপন করা না গেলে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হবে বলে জানান কৃষকরা। তবে বৃষ্টির অপেক্ষায় না থেকে অনেকেই স্যালোমেশিন বা মটর দিয়ে আমন চারা রোপন শুরু করেছে।
কৃষকরা বলেন এতে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি কাঙ্খিত লাভের মুখ দেখবেন না তাঁরা।উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে অধিকাংশ জমি আমন ধান রোপনের জন্য প্রস্তুত করেছে কৃষকরা।অনাবৃষ্টি আর প্রচন্ড রোদের তাপে প্রস্তুতকৃত জমি শুকিয়ে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে,জেগে উঠেছে পর্যাপ্ত পরিমাণ আগাছাও।এদিকে পানির অভাবে বীজতলায় আমন চারা লাল হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে।ধানের চারার বয়স বেশি ও চারা মরে যাওয়ার আশঙ্কায় দিশেহারা এখানকার চাষিরা। উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে,এ বছর রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১৯হাজার ৫৬০ হেক্টর ধরা হয়েছে। এরই মধ্যে ৭শ৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপন করেছে কৃষকরা।
পাটগ্রাম ইউনিয়ন কৃষক আনোয়ার বলেন,আষাঢ় মাস শেষ হয়ে গেল কোন বৃষ্টিপাত নাই। ধান লাগাতে পারতেছি না। সময়ও চলে যাচ্ছে, বাধ্য হয়ে শ্যালো মেশিন চালিয়ে পানি দিয়ে ৫০ শতাংশ জমিতে ধানের চারা লাগিয়েছি।,
একই এলাকার কৃষক মলায় রায় বলেন, কিছুদিন থেকে কোন বৃষ্টি নাই। ধানের চারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, এ কারণে মোটর দিয়ে (বিদ্যুৎ চালিত পাম্প)পানি তুলে আমন ধান রোপন করেছি।এতে খরচের পরিমাণ বেশি হচ্ছে।,
এ বিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো.আব্দুল গাফফার বলেন,আমন ধান রোপন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় রোপন অগ্রগতি কিছুটা কম।তবে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কোন সমস্যা হবে না। যে সকল কৃষকের চারার বয়স ৩৫ থেকে ৪০ দিন পার হয়ে গেছে তাদের আমরা সেচযন্ত্র চালু করে ধান রোপনের পরামর্শ দিচ্ছি।