মিনহাজ পারভেজ , লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
ধরলা নদীতে জেগে উঠা ফুটন্ত বালুচর এখন কৃষকের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে
ধরলা নদীর বিস্তৃর্ণ তীরে ধান, ভুট্টা, সরিষা সহ সবজির বাম্পার ফলন দেখা গেছে। চলতি মৌসুমে ধরলা নদীর তীরে জেগে ওঠা চরে বিভিন্ন ফসলের চাষ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। এখানকার চরের বালিতে জমা পলি মাটি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চাষের উপযোগী বিভিন্ন ফসল হয়েছে বেশ ভালো। কোন প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এই মৌসুমে ফসলের চাষ করে লাভবান হবেন এখানকার স্থানীয় চাষিরা।
জানা যায়, লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া ধরলা নদীতে বিভিন্ন স্থানে জেগে উঠেছে চর। এই মৌসুমে নদীর তীরে জেগে ওঠা এসব চরে ফসলের চাষ করেছেন এই অঞ্চলের স্থানীয় চাষিরা। আবহাওয়া চাষের অনুকূলে থাকায় এ বছর ফসলের চাষে বেশ সাফল্যের আশা স্থানীয় কৃষকদের। এই সাফল্য বজায় থাকলে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে বিভিন্ন ফসলের চাষ করবেন তারা।
ধরলার তীরে যেদিকে দুচোখ যায় শুধু সবুজ ক্ষেত চোখে পড়ে। ফসলের চাষে তুলনামূলকভাবে খরচ কম লাগায় ও পরিশ্রম কম লাগায় দিন দিন ধরলার তীরে চাষিরা সবজি সহ বিভিন্ন ফসলের চাষে ঝুঁকছেন।
পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের স্থানীয় চাষি জাফর ইকবাল জানান, আগে এখানকার বালুচরে তেমন কোন ফসলের চাষ করা হতো না। এই মৌসুমে চরে পলিমাটি পড়ায় ও এখানকার আবহাওয়া ধান, ভুট্টা, সরিষা,সবজি সহ বিভিন্ন ফসল চাষের অনুকূলে থাকায় দিন দিন এখানে চাষাবাদ বেড়েই চলেছে। তাছাড়াও ধরলা নদীর তীরে জেগে ওঠা বালুচরে চাষ করলে তেমন কোন খরচ হয় না এবং তুলনামূলকভাবে পরিশ্রম অনেক কম লাগে। বালুচরে চাষ করা সবজিতে তেমন কোন সার কিংবা রোগের জন্য কীটনাশকের ব্যবহার করতে হয় না। এজন্য সার কিংবা কীটনাশকের জন্য আলাদাভাবে কোন খরচ হয় না।
এ প্রসঙ্গে পাটগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল গাফফার বলেন, আগের বছরগুলোর তুলনায় এই বছর বালুচরের জমিগুলোতে ব্যাপকহারে ধান,ভুট্টা,সরিষা সহ বিভিন্ন সবজির চাষ করেছেন কৃষকরা। বালুচরের পলিমাটিতে ফলন ভালো হওয়ায় লাভবান হওয়ার আশা করছেন চাষিরা। আমরা ফসল চাষের ব্যাপারে কৃষকদের সকল ধরণের সহযোগিতা করে যাচ্ছি।
পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মাহমুদুল হাসান বলেন, উপজেলার ধরলা নদীর তীরে জেগে ওঠা বালুচরে কৃষকেরা বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ করেছেন ফসল চাষের ব্যাপারে কৃষকদের সকল প্রকার সহযোগিতা নিশ্চিত করতে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এবং ধরলা নদীর তীরে জেগে ওঠা বালুচরের অনাবাদি জমিতে চাষ উপযোগী করে বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করায় কৃষকদের ধন্যবাদ জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, বালুচরে জেগে ওঠা জমিতে উৎপাদিত ফসল দেশের খাদ্য উৎপাদনে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
