বগুড়া জেলা প্রতিনিধি :
জ্ঞাত আয় বহির্ভূতভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বগুড়া জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামছুদ্দিন শেখ হেলাল সহ তার স্ত্রী ও ছেলের নামে দুদকের মামলা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বগুড়া কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মনিরুজ্জামান বাদী হয়ে রবিবার এ মামলা করেন।
মামলায় সামছুদ্দিন শেখ হেলাল ছাড়াও তার প্রথম স্ত্রী হেলেনা পারভীন এবং ছেলে হোসাইন হাবীবকে আসামি করা হয়েছে।
দুদকের উপ-পরিচালক মনিরুজ্জামান জানান, মামলায় হেলালের বিরুদ্ধে ৯ কোটি ৭২ লাখ ৪০ হাজার ৯২০ টাকা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাছাড়াও আরো এক কোটি দুই লাখ টাকার বেশি সম্পদ তার দ্বিতীয় স্ত্রী স্কুল শিক্ষিকা আবে জমজম ওরফে নাজীর কাছে স্থানান্তরের অভিযোগও করা হয়েছে উক্ত মামলাটিতে ।
এদিকে, দুদকের এজাহার সূত্রে আরো জানা যায়, হেলালের প্রথম স্ত্রী হেলেনা পারভীন জ্ঞাত আয় বহির্ভূতভাবে দুই কোটি ৪১ লাখ ২৩ হাজার ৯৮৩ টাকা অর্জন করেছেন। তার দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে ১৬ লাখ ৯৪ হাজার ১৮৯ টাকা ভিত্তিহীন হিসাব দেন তিনি। এ কারণে তার মামলায় দুদক আইন ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে অভিযোগ করা হয়। হেলালের ছেলে হোসাইন হাবীবের বিরুদ্ধেও দুই কোটি ৮০ লাখ পাঁচ হাজার ৩৪৯ টাকা অবৈধ আয় অর্জনের প্রাথমিক সত্যতা পায় দুদক। এ জন্য দুদক তাকেও আসামি করা হয়েছে।
এদিকে এই মামলার বিষয়ে সামছুদ্দিন শেখ হেলাল বলেন, দুদক আমার কাছে সম্পদ বিবরণী চেয়েছিল। আমি সম্পদ বিবরণী দাখিল করেছি। ওই সম্পদের বিপরীতে নিয়মিত আয়করও দেওয়া হয়েছে।
দুদক উপপরিচালক মনিরুজ্জামান বলেন, পরিবহন নেতা সামছুদ্দিন শেখ হেলালের অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধান করা হয়। তদন্তে অবৈধ সম্পদের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় হেলাল, তার স্ত্রী ও ছেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
