
জবি প্রতিনিধি:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শিবিরের ‘গুপ্ত রাজনীতি’ হানিট্র্যাপের মাধ্যমে নারী শিক্ষার্থীদের সাথে শিবির নেতার প্রতারণা ও যৌন হয়রানির অভিযোগের বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদল।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহীদ রফিক ভবনের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা এসব দাবি জানান। মনববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, শিবির তাদের কর্মীদের পরিচয় গোপন রেখে ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক ও নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীর পরিচয়ে তারা শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে ভোট চেয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
উল্লেখ্য,অভিযুক্ত সাকিব নামের এই শিক্ষার্থী তিন নারী শিক্ষার্থীর সাথে প্রেমের অভিনয় করে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেন এবং ছাত্রী সংস্থায় যোগ দেবার জন্য চাপ প্রয়োগ ও জকসুর শিবির প্যানেলে ভোট দিতে চাপ প্রয়োগ করেন দাবি করে লিখিত অভিযোগ দেন তিন নারী ভুক্তভুগী শিক্ষার্থী।
মানববন্ধনে ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আরিফুর ইসলাম আরিফ বলেন, জকসু তে বিজয় হওয়ার জন্য একটা সংগঠনের কর্মী একাদিক নারী শিক্ষার্থীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ভোট করানো যে প্রচেষ্টার কথা জানতে পেয়েছি তারা একটা রাজনৈতিক অপকৌশল হিসেবে মনে করে,একই সাথে একাদিক মেয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে এমন আচরণ কোন শিক্ষার্থী করা উচিত না বলে মনে করি,যখন আমরা জানতে পারি সেই শিক্ষার্থী শিবিরের কর্মী হওয়া সত্যেও শিবির অস্বীকার করে এটা একধনের নোংরা রাজনৈতিক কালচারের স্পষ্ট উদাহরণ হয়ে ধারায়,কারণ অতীতের আমরা দেখেছি গুপ্ত হয়ে বসে থেকে শিবিরের পক্ষে সকল কাজ করে কিন্তু কোন অন্যায় অপরাধ করলেই তখন শিবির দায় নিতে চায় না,তাই স্পষ্ট বলতে চাই তাদের কমিটিগুলো প্রকাশ করা হোক,সুপ্ত হয়ে রাজনীতি করার আহবান জানাই।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের বরাতে বক্তারা জানান, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে পরে তা ভেঙে দিয়েছেন। অন্তত তিনজন শিক্ষার্থী স্বপ্রণোদিত হয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়। বক্তারা আরো অভিযোগ করেন, ‘হানি ট্র্যাপ’ (প্রতারণামূলক কৌশল) ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করার ঘটনাও ঘটেছে, যা উদ্বেগজনক।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা ক্যাম্পাসে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ, অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং শিবিরের সব কর্মীর তালিকা প্রকাশের দাবি জানান। পাশাপাশি তারা বলেন, কোনো সংগঠনের কর্মী অপরাধে জড়িত থাকলে তার দায় সংশ্লিষ্ট সংগঠনকেই নিতে হবে।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য সচিব সামসুল আরেফিন তার বক্তব্যে বলেন, তিন জন বোন একত্রিত হয়ে অভিযোগ জানিয়েছে, তারা আলাদা আলাদা ভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন। তারা প্রতিবাদ করতে শিখেছে।
এ সময় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদি হাসান হিমেল , যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমেদ, মোস্তাফিজ রহমান রুমি ,রবিউল আওয়াল, রবিউল আওয়াল, নাহিয়ান বিন হক অনিক ,ইয়াকুব শেখ অনিক,নজরুল ইসলাম মামুন,রাশেদ আমিন, মাহমুদুল হাসান খান মাহমুদ,আরিফুল ইসলাম আরিফ,নাফিজ,রিয়াদ,পরাগ,রবিন মিয়া শাওন,মেহেদী হাসান,মিয়াজ,রবিউল ইসলাম শাওন ও আহবায়ক সদস্যবৃন্দ আহাদ,সাম্যঅর্ণব তারেক,আবু-বক্কর সহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।