
মোহাম্মদ আব্দুন নুর রানা | সিনিয়র রিপোর্টার
ফরিদপুর সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নে ঘটে যাওয়া সেই নৃশংস ও আলোচিত ‘ত্রিমুখী হত্যাকাণ্ডের’ প্রধান হোতা আকাশ মোল্লাকে (২৮) গ্রেফতার করেছে যৌথবাহিনী। আজ মঙ্গলবার ভোরে গদাধরডাঙ্গী গ্রামের একটি কলাবাগান থেকে তাকে আটক করা হয়। র্যাব-১০ ও ফরিদপুর জেলা পুলিশের একটি বিশেষ দল এই ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের নেপথ্য কথা
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পর থেকেই আসামি আত্মগোপনে ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথবাহিনী অবস্থান নিশ্চিত করে গদাধরডাঙ্গী গ্রামের একটি কলাবাগানে অভিযান চালায়। র্যাব-১০-এর সহকারী পুলিশ সুপার গাজী মো. লুৎফর রহমান জানান, গ্রেফতারের সময় আকাশের আচরণ ছিল চরম অসংলগ্ন ও অস্বাভাবিক।
যেভাবে ঘটে সেই বীভৎস ঘটনা
উল্লেখ্য, গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে গদাধরডাঙ্গী গ্রামের আজগর মোল্লার বাড়ির উঠানে এক নারকীয় তান্ডব চালায় ঘাতক আকাশ। স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আকাশ একটি কোদাল নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। তার এলোপাতাড়ি কোপে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান:
রাহেলা বেগম (৫০)
আমেনা বেগম (৭৫) (রাহেলা বেগমের মা)
কাবুল (৪৫) (প্রতিবেশী)
এই হামলায় গুরুতর আহত রিয়াজ মোল্লাকে (৪৫) আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশ ইতোমধ্যে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। প্রাথমিকভাবে ঘাতক আকাশকে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে করা হলেও, এর পেছনে অন্য কোনো গভীর শত্রুতা বা ষড়যন্ত্র আছে কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদালটি উদ্ধার করতে এবং ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হবে। তার মানসিক অবস্থা যাচাইয়ের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষারও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এদিকে, এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শোকের ছায়া নেমে এসেছে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে।