
লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি :
নড়াইলের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সোনালী রঙে ভরে উঠেছে পাকা ধান। ভালো ফলনের আশায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটলেও হঠাৎ বৈরী আবহাওয়ায় সেই আনন্দে নেমে এসেছে দুশ্চিন্তার ছায়া। ঝড়-বৃষ্টির কারণে ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানো নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন জেলার কৃষকরা।
মাঠের অধিকাংশ ধান ইতোমধ্যে কাটার উপযুক্ত হয়ে উঠেছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় অনেক কৃষক ধান কাটতে পারছেন না। আবার যারা কেটে মাঠে রেখেছেন, তারাও পড়েছেন বিপাকে। ঝড়-বৃষ্টির কারণে কাটা ধান ঘরে তুলতে পারছেন না তারা।
জেলার সদর উপজেলার তুলারামপুর, মুলিয়া, মির্জাপুর, হবখালী, মাইজপাড়া, চন্ডিবরপুর, আউড়িয়াসহ লোহাগড়া ও কালিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক ঝড়-বৃষ্টিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক জায়গায় পাকা ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে, আবার নিচু জমিতে কেটে রাখা ধান পানিতে ভিজে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
শনিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠজুড়ে পাকা ধান ঝড়ের কারণে হেলে পড়েছে। বিলাঞ্চলের নিচু জমিতে কাটা ধান পানিতে ভিজে কৃষকদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
লোহাগড়া উপজেলার লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের আমাদা গ্রামের কৃষক এসকেন মৃধা, গন্ডব গ্রামের মন্নু মিয়া ও কুমড়ি গ্রামের জান্নাত হোসেনসহ একাধিক কৃষক জানান, কয়েকদিন আগে রোদ দেখে তারা ধান কেটে মাঠে রেখেছিলেন। কিন্তু আকস্মিক বৃষ্টির কারণে তা ঘরে তুলতে পারেননি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে জানা যাচ্ছে, বৈরী আবহাওয়া আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে—এতে তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, ধান উৎপাদনের খরচ বেড়েই চলেছে। কৃষি শ্রমিকের মজুরি এখন ১,০০০ থেকে ১,১০০ টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে বাজারে ধানের দাম তুলনামূলক কম। সব মিলিয়ে তারা আর্থিকভাবে চাপে রয়েছেন। অনেকেই বলছেন, “আকাশে মেঘ দেখলেই এখন দুশ্চিন্তা বাড়ে।”
নড়াইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৫০ হাজার ২৯৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উৎপাদনও ভালো হয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক ঝড়-বৃষ্টির কারণে ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানো কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে কৃষকদের মাঝে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নড়াইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আরিফুর রহমান বলেন, “ঘনঘন ঝড়-বৃষ্টির কারণে কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য জানিয়ে সচেতন করা হচ্ছে, যাতে ক্ষতি কমানো যায়।”
বৈরী আবহাওয়ার এ পরিস্থিতিতে কৃষকদের একটাই প্রত্যাশা—কয়েকদিন টানা রোদ উঠুক, তাহলে সোনালী ফসল নিরাপদে ঘরে তুলতে পারবেন তারা।