
কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
“মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য” ভূপেন হাজারিকার এই চিরন্তন গান যেন এখন দীর্ঘশ্বাস হয়ে বাজছে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার নেপা ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা গ্রামের এক অসহায় পরিবারের জীবনে। অভাব-অনটনের সঙ্গে লড়াই করে চলা দিনমজুর আবুবকর খলিফা (৩৮) এখন চিকিৎসার অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
জানা গেছে, আবুবকর খলিফা ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালাতেন তিনি। বড় ছেলে মোস্তাকিম স্থানীয় বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ছোট ছেলে ওয়ালিদ পড়ছে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে। দারিদ্র্য থাকলেও স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ছোট্ট সংসারে ছিল শান্তি আর স্বপ্ন।
কিন্তু একটি সড়ক দুর্ঘটনা মুহূর্তেই বদলে দেয় সবকিছু। দুর্ঘটনায় তার ডান হাত ভেঙে গুরুতর জখম হয় এবং ধীরে ধীরে সেটি প্রায় অকেজো হয়ে পড়ে। এরপর আবার পায়ে আঘাত লাগায় শিরাজনিত জটিলতা দেখা দেয়। বর্তমানে তিনি অসহনীয় যন্ত্রণায় দিন কাটাচ্ছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ধার-দেনা করে প্রাথমিক চিকিৎসা চালানো হলেও এখন আর চিকিৎসার খরচ বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোরে গিয়ে এমআরআই (MRI)সহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দিয়েছেন। এজন্য প্রয়োজন প্রায় ২০ হাজার টাকা, যা দরিদ্র এই পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
এদিকে উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারটি এখন চরম সংকটে পড়েছে। সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অনেক সময় ঠিকমতো খাবার জোটাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে পরিবারটিকে।
অসহায় আবুবকর খলিফা প্রশাসন, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও দানশীল মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তিনি আবার সুস্থ হয়ে কাজে ফিরতে চান এবং সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চান।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষ এগিয়ে এলে আবুবকরের চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব। সামান্য সহযোগিতাও একটি অসহায় পরিবারের জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারে বাঁচার আশা।