
জামালপুর প্রতিনিধি
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ৭নং চরবানী পাকুরিয়া ইউনিয়নের বাঁকাই তিন রাস্তার মোড় থেকে মুজা মুহুরির বাড়ি পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বছরের পর বছর এই রাস্তাটি পাকা না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। রাস্তাটি সংস্কার ও পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাঁকাই তিন রাস্তার মোড় থেকে শুরু হওয়া রাস্তাটি বাঁকাই উত্তর পাড়া হয়ে এগিয়ে গেছে শিহাটা মেইন রোডের দিকে। এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন বাঁকাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শত শত কোমলমতি শিক্ষার্থী ও স্থানীয় প্রায় ১০ হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেন।মাঝেমধ্যে দেখা গেছে অটোরিকশা বালুর ট্রাক কাদা এবং বৃষ্টির মধ্যে গাড়ি চালকরা ভয়ংকর পরিস্থিতির শিকার হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। এ সময় রাস্তা দিয়ে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বাঁকাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় কাদার কারণে পা পিছলে পড়ে গিয়ে তাদের জামা-কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। অনেকের বই-খাতা ভিজে গিয়ে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বাঁকাই উত্তর পাড়ার বাসিন্দা ও স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তাটি পাকা করার দাবি জানালেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। রাস্তাটি কাঁচা থাকায় কৃষিপণ্য বাজারজাত করতেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় স্থানীয় কৃষকদের। রাস্তাটি পাকা করা এখন সময়ের দাবি।
বাঁকাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ‘ছোট ছোট বাচ্চারা যখন স্কুলে যায়, তখন রাস্তাটির যে বেহাল দশা, তাতে সবসময় আতঙ্কে থাকি। রাস্তাটি যেন দ্রুত পাকা করা হয়, এটাই আমাদের চাওয়া।’এ বিষয়ে জনদুর্ভোগ লাঘবে এবং দ্রুত রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করার লক্ষ্যে মেলান্দহ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। তাদের দাবি, জনস্বার্থ বিবেচনায় অতি দ্রুত রাস্তাটি পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হোক।