
মাইনুল ইসলাম জনি, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:
পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে হামলার শিকার হয়েছেন চ্যানেল ওয়ান’র নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক আবু সাইদ অপু।
এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন নীলফামারী প্রেসক্লাবসহ জেলার বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন গুলো। এ হামলা শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর নয়, বরং স্বাধীন গণমাধ্যম ও জনগণের তথ্য জানার অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত মনে করছেন গণমাধ্যম কর্মীরা।
রোববার(২১ জুন) রাতে নীলফামারী প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক এম. আর চৌধুরী রাজু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার একটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের প্রত্যক্ষ মদদে সংবাদ সংগ্রহের সময় হামলার শিকার হন সাংবাদিক আবু সাইদ অপু। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রেসক্লাব নেতারা বলেন, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ নষ্ট করার এমন অপচেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিবৃতিতে ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হামলার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নির্বিঘ্নে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করে নীলফামারী প্রেসক্লাব, নীলফামারী সাংবাদিক ইউনিয়নসহ জেলার বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনগুলো।
হামলার শিকার ভুক্তভোগী সাংবাদিক চ্যানেল ওয়ান’র জেলা প্রতিনিধি আবু সাঈদ অপু জানান, ”তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ শেষে ফেরার সময় কিশোরগঞ্জ উপজেলার কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বাহিনী আমার উপর অর্তকিত হামলা চালায়। এসময় তারা ক্যামেরার লেন্স ভাংচুর, পিটু ক্যামেরা ও টাইপোটসহ লাইভ ডিভাইস মেশিন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় প্রত্যক্ষদশী মিনারুল ইসলাম বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ থানায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে একটি এজাহার দাখিল করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গ্রেনেট বাবু মুঠোফোনে সাংবাদিকদের জানান, ”আমি রংপুর থেকে এসে শুনেছি সাংবাদিকরা শুধু জনগণের কথা শুনছে, আমার লোকজনের কথা শুনছে না। তাই তারা প্রতিবাদ করতে গিয়ে কথাকাটাকাটি হয়েছে।”
প্রসঙ্গত: সম্প্রতি জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যান হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী (গ্রেনেট বাবু) কর্তৃক সরকারি জমি দখল ও সরকারি অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগ বিষয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ হলে গত ১ জুন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব জিয়াউর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সুস্পষ্ট মতামতসহ পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন চাওয়া হয়। ওই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সরকারি খাস জমি দখল ও সরকারি অর্থ ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন নীলফামারী জেলা প্রশাসক মো. নায়িরুজ্জামান। তদন্ত কমিটিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নীলফামারীকে আহ্বায়ক এবং রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টরকে সদস্য সচিব করে গঠিত কমিটিতে কিশোরগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি), থানার ওসি ও উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারকে সদস্য করা হয়। আদেশে বলা হয়, কমিটিকে সরেজমিন তদন্ত সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা এবং মতামতসহ জরুরি ভিত্তিতে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।
কিশোরগঞ্জ উপজেলার স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, “কিশোরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউপি চেয়ারম্যান হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ওরফে গ্রেনেট বাবু কর্তৃক সরকারি জমি দখল ও সরকারি অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগ বিষয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ হয়। ফলে, তদন্ত কমিটি গঠিত হয়ে তদন্ত চলমান রাখে। এ নিয়ে চ্যানেল ওয়ান’র রিপোর্টার আবু সাঈদ অপু রোববার দুপুরে চেয়ারম্যান কর্তৃক দখলকৃত জমির উপর একটি অনুসন্ধান রিপোর্ট করার জন্য তথ্য সংগ্রহকালে তাঁর ওপর চড়াও হন ইউপি চেয়ারম্যানের বাহিনী। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
এদিকে, তথ্য সংগ্রহকালে প্রকাশ্য দিবালোকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আর ক্ষোভ প্রকাশ করছে জেলার সাংবাদিক সংগঠনগুলো। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। স্বাধীন ও নির্বিঘ্নে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছেন সাংবাদিকমহল।