
টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি
রাহিদ রানা
টাঙ্গাইলের নাগরপুরে একটি বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলে বিষাক্ত কীটনাশক প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। ওই টিউবওয়েলের পানি পান করে ৩৩ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে দুই ছাত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার মামুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো ক্লাস শুরুর আগে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় মাঠে স্থাপিত টিউবওয়েল থেকে পানি পান করে। পরে ক্লাসে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্রথমে দুইজন শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিষয়টি শিক্ষকরা জানতে পারেন। এরপর একে একে আরও শিক্ষার্থী অসুস্থ হতে থাকে।
এ সময় বিদ্যালয়ের দপ্তরি মিজানুর রহমান টিউবওয়েলের পাশে পলিথিনে মোড়ানো দুর্গন্ধযুক্ত কীটনাশক জাতীয় পদার্থ দেখতে পান। পরে টিউবওয়েলের পানিতেও দুর্গন্ধ পাওয়া যায়। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দ্রুত নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীরা জানায়, টিউবওয়েলের পানি পান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের পেটে ব্যথা, মাথা ঘোরা ও বমি বমি ভাব শুরু হয়। পরে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “ক্লাস চলাকালে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়তে শুরু করে। পরে দপ্তরি এসে জানায় টিউবওয়েলের পাশে পলিথিনে মোড়ানো দুর্গন্ধযুক্ত কীটনাশক পাওয়া গেছে। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে টিউবওয়েলের পাশে সাদা পাউডার জাতীয় পদার্থ দেখতে পাই এবং পানিতে দুর্গন্ধ অনুভব করি। এরপর দ্রুত শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাদির আহম্মেদ বলেন, “খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে গিয়ে শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিয়েছি। টিউবওয়েলের পানিতে কী ধরনের বিষাক্ত পদার্থ মেশানো হয়েছে তা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাদীর বলেন, “৩৩ জন শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে দুইজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। বাকিরা চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এরফান উদ্দিন বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে শিক্ষার্থীদের দেখেছি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, স্বাস্থ্য বিভাগ ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। টিউবওয়েলে কীটনাশক প্রয়োগের ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। কে বা কারা বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলে বিষাক্ত পদার্থ মিশিয়েছে, তা উদ্ঘাটনে প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে।