
নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারী জেলা পুলিশে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত সাইবার নিরাপত্তা আইনে ২২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অনলাইন ভিসা প্রতারণা, ক্যাসিনো ও জুয়ার মতো অপরাধের বিরুদ্ধে দায়ের করা এসব মামলায় মোট ৬১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ।
এছাড়াও, জেনারেল ডায়েরী (জিডি) মুলে উদ্ধার করা হয়েছে ২০টি হারানো মোবাইলসহ ভুক্তভোগীর খোয়া যাওয়া নগদ ৯ হাজার টাকা।
সোমবার (২৭ জুলাই) নীলফামারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উদ্ধার করা মোবাইল ফোন ও অর্থ প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দিয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন জেলা পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁন।
জেলা পুলিশের সূত্র বলছে, পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁন এঁর নির্দেশনায় প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পুলিশিং কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে নীলফামারীতে গঠিত হয় জেলা পুলিশের সাইবার সেল। এটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে সাইবার সেলের দক্ষ সদস্যরা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধারের পাশাপাশি ডিজিটাল প্রতারণা ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে কাজ করছেন। ফলশ্রুতিতে পুলিশের প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধানের মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া ও চুরি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ভুলবশত ‘নগদ’ অ্যাকাউন্টে চলে যাওয়া ৯ হাজার টাকাও উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দেওয়া হয়।
এছাড়াও গেল ৬ মাসে সাইবার নিরাপত্তা আইনে দায়ের হওয়া ২২টি মামলায় মোট ৬১জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। ভিসা প্রতারণা, ক্যাসিনো ও অনলাইন জুয়ার মতো অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে বলেও জানান জেলা পুলিশের সূত্র গুলো।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, “কয়েক দিন ভূল বশত: একটি নগদ নম্বরে ৯ হাজার টাকা চলে যায়। অনেক চেষ্টার পরেও ওই নম্বরের মালিকের সাথে যোগাযোগ করতে পারিনি। পরে সাইবার সেলে অভিযোগ করে অনেক দ্রুততার সাথে হারানো টাকা ফেরৎ পেয়েছি।”
এদিকে, কষ্টার্জিত টাকায় কেনা হারানো মোবাইল ফোন ফিরে পেয়ে জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অন্যান্য সেবাগ্রহীতারা।
জানতে চাইলে, জেলা পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁন সাংবাদিকদের বলেন, ”নীলফামারীকে সাইবার অপরাধ মুক্ত করার লক্ষ্যে গঠন করা হয়েছে সাইবার সেল। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফেক আইডি নিয়ন্ত্রণ, হ্যাকিং রোধ এবং আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে এই সেলের দক্ষ সদস্যরা।”
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহসিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) এ.বি.এম. ফয়জুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।