
ভোরের বাংলা নিউজ প্রতিবেদক
‘বাংলাদেশে আল-কায়েদা ঘাঁটি গড়ার চেষ্টা করছে’- এমন একটি খবরের ফটোকার্ড শেয়ার করে উচ্ছ্বাসের টোনে ফেসবুকে প্যারোডি লিখেছেন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের (সিটিটিসি) সাবেক প্রধান ও সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মো. মনিরুল ইসলাম। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে বিতর্কিত এই পুলিশ কর্মকর্তা পলাতক রয়েছেন।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে মনিরুল লিখেছেন, ‘এখন তো নাই আমি, কী বলবি রে বোকা।’

সম্প্রতি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ‘অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিম’-এর ৩৮তম প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বাংলাদেশে সক্রিয় সেল গঠনের মাধ্যমে নিজেদের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে আল-কায়েদা।
১০ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, আল-কায়েদার সহযোগী সংগঠন ‘আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট’ (একিউআইএস) একটি বিভক্ত গোষ্ঠী থেকে ধীরে ধীরে আঞ্চলিক সন্ত্রাসী সংগঠনে পরিণত হচ্ছে। বড় ইউনিটের পরিবর্তে ছোট ও ছড়িয়ে থাকা সেলের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সংগঠনটি লজিস্টিক ও আর্থিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে।
মনিরুল ইসলামের দায়িত্বের সময়ে দেশে জঙ্গিবাদ নিয়ে নানা কথা চাউর ছিল। জঙ্গিবাদ দমনে সে সময় সরকার সফলতা দেখালেও কিছু ক্ষেত্রে বিরোধী দলকে দমনে এটিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও আছে।
মনিরুল ইসলামের বর্তমান অবস্থান নিয়ে পুলিশের কাছে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। তবে ২০২৪ সালের ৬ অক্টোবর প্রবাসী বাংলাদেশি অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের তার ফেসবুকে ছবিসহ এক পোস্টে লেখেন, ‘পলাতক এসবি প্রধান (সাবেক) মনিরুল ইসলামের অবস্থান নিশ্চিত করেছে অত্যন্ত বিশ্বস্ত সূত্র। ভারতের রাজধানী দিল্লির কানঘট প্লেসের একটি গ্রোসারি স্টোরে রোববার বিকেলে মনিরুল ইসলামকে কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কেনার সময় ক্যামেরাবন্দি করা হয়।’
কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনের নামে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ২৫ কোটি টাকা আনার অভিযোগ ওঠে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। সরকার পতনের পর প্রশাসনের আরও অনেক কর্মকর্তার মতো মনিরুলও দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে চলে যাওয়া বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় আটশ পুলিশ সদস্য এখনো কাজে যোগ দেননি। কয়েক দফায় তাদের কাজে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হলেও এসব সদস্যের কোনো হদিস নেই। তারা কোথায় আছেন, সে বিষয়েও পুলিশ সদর দপ্তরের কাছে কোনো তথ্য নেই।