
কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা:
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলায় এক সপ্তাহ ধরে ১০ টাকার রেভিনিউ স্ট্যাম্পের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও এনজিওর আর্থিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। রেভিনিউ না পাওয়ায় ঋণ বিতরণ ও গ্রাহকদের কাছ থেকে কিস্তির টাকা গ্রহণসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে ভোগান্তিতে পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কোটচাঁদপুর উপজেলায় গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক, আশা, পদক্ষেপ, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকসহ ৩০টির বেশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিও ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনে ১০ টাকার রেভিনিউ স্ট্যাম্পের প্রয়োজন হয়। কিন্তু চাহিদার তুলনায় রেভিনিউ সরবরাহ না থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলায় প্রতি মাসে প্রায় ৪ লাখ টাকার রেভিনিউ স্ট্যাম্পের চাহিদা রয়েছে। তবে গত মাসে সর্বশেষ মাত্র ৪০ হাজার টাকার রেভিনিউ সরবরাহ করা হয়েছিল। এরপর চলতি মাসে এখন পর্যন্ত কোনো রেভিনিউ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে উপজেলা পোস্ট অফিস কর্তৃপক্ষ। ফলে বর্তমানে সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মী নাহিদ বলেন, রেভিনিউ সংকটের কারণে ঋণ বিতরণসহ আমাদের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে।
একটি এনজিওর কর্মী পারভীনা বলেন, কোথাও রেভিনিউ পাওয়া যাচ্ছে না। আবার রেভিনিউ ছাড়া ঋণ বিতরণও করা যায় না। ফলে আমরা চরম সমস্যার মধ্যে পড়েছি।
১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে কোটচাঁদপুর উপজেলা পোস্ট মাস্টার ফিরোজ আলমের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, “আমরা জেলা পোস্ট অফিসের মাধ্যমে রেভিনিউ সংগ্রহ করে তা উপজেলার ১৬টি সাব-পোস্ট অফিসে বিতরণ করি। সেখান থেকে গ্রাহকরা রেভিনিউ কিনে থাকেন। প্রতি মাসে প্রায় ৪ লাখ টাকার চাহিদা থাকলেও চলতি মাসে এখন পর্যন্ত আমরা কোনো রেভিনিউ পাইনি। এ কারণেই সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
ঝিনাইদহ জেলা পোস্ট মাস্টার রিয়াজুল হক বলেন, “পোস্ট অফিস রেভিনিউ তৈরি করে না। আমরা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে রেভিনিউ সংগ্রহ করে জেলার বিভিন্ন পোস্ট অফিসে বিতরণ করি। চলতি মাসে এখনো রেভিনিউ পাওয়া যায়নি। তবে দু-এক দিনের মধ্যে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন আর সংকট থাকবে না।
এদিকে রেভিনিউ সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এবং নেজারত, ট্রেজারি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল আমিন বলেন, “ইতিমধ্যে রেভিনিউ বিতরণ করা হয়েছে। আশা করি, এখন আর সংকট থাকবে না।
রেভিনিউ সরবরাহ স্বাভাবিক হলে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক কার্যক্রম ও গ্রাহকদের ভোগান্তি কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।