
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঘুষ, সিন্ডিকেট আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা দিতে বিআরটিএ চেয়ারম্যানের দপ্তরে যাওয়া সাধারণ মানুষের যেন এখন ‘নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারা’! সরকারি গোপনীয়তার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) প্রধান কার্যালয় থেকে চাঞ্চল্যকরভাবে পাচার হয়ে যাচ্ছে নাগরিক অভিযোগের নথি।
বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১ (মিরপুর)-এর ফিটনেস ও মালিকানা শাখার বিতর্কিত কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক (এডি) শেখ ইমরানের বিরুদ্ধে লিখিত নালিশ জমা দেওয়ার পরপরই তা পৌঁছে গেছে তার টেবিলে!
অভিযোগের কপি হাতে পেয়েই নিজের অবস্থান সুসংহত করতে তড়িঘড়ি মাঠে নামেন এডি শেখ ইমরান। চেয়ারম্যান দপ্তরের ‘স্পাই’ বা তথ্য পাচারকারীদের মাধ্যমে সবুজ সংকেত পেয়েই তিনি অনুসন্ধানী কাজের যুক্ত দুই সংবাদকর্মী—মাহমুদুল হাসান ও রাহিমা আক্তার মুক্তাকে সরাসরি হুমকি দেন।
তিনি প্রকাশ্যেই হুঙ্কার ছেড়ে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে কোথায় চিঠি জমা হলো তা আমি ঠিকই জানি। এসব অভিযোগ দিয়ে আমার কোনো ক্ষতি করা যাবে না!” অবসর গ্রহণের সময় ঘনিয়ে এলেও এমন দাপুটে বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয়—ভেতরের অভ্যন্তরীণ চক্রটি তার কতটা অনুগত।
কাঠগড়ায় চেয়ারম্যান কার্যালয়ের ‘পিএ-২ রেজাউল’সরকারি দপ্তরের স্পর্শকাতর ফাইল লিক হওয়ার সূত্র ধরে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য।
গত ২ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে বিআরটিএ চেয়ারম্যান এবং অডিট ও প্রশাসন শাখা বরাবর লিখিত দুটি ভিন্ন অভিযোগপত্র জমা দেন ভুক্তভোগী আবদুল্লাহ আল মামুন। চেয়ারম্যানের দপ্তরে এই নথি দুটি আনুষ্ঠানিকভাবে রিসিভ করেন পিএ-২ রেজাউল।
নথি জমা হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তা অভিযুক্ত ইমরানের কাছে পৌঁছানোর পেছনে এই পিএ-২ রেজাউলের সরাসরি যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একাধিকবার ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন গোপন ফাইল লেনদেনের বিনিময়ে অসাধু কর্মকর্তাদের কাছে পাচার করার নজির রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
দাখিল করা অভিযোগে পরিষ্কার উল্লেখ করা হয়েছে, বিআরটিএ মিরপুর সার্কেলের এডি ইমরানের কক্ষে নিয়মিত দালাল ও বহিরাগত চক্রের যাতায়াত প্রমাণ করতে অবিলম্বে বিআরটিএ কার্যালয়ের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ জব্দ ও সংরক্ষণ করতে হবে।
ফিটনেস শাখার অবৈধ কালেকশন ও ঘুষের চালানের মূল রিমোট কন্ট্রোল মিস্ত্রি মিরাজের হাতে। ভুয়া ভাউচার বানিয়ে জুনিয়র কর্মকর্তাদের ফান্ড থেকে এডি শেখ ইমরানের ব্যক্তিগত বিকাশ খরচ, মোবাইল রিচার্জ ও ক্যাফেটেরিয়ার বিল মেটাতে বাধ্য করেন তিনি।
তথ্য পাচারের মতো গুরুতর অপরাধ এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের হুমকির বিষয়টিকে ছেড়ে দিচ্ছেন না সংবাদকর্মীরা।
তারা জানিয়েছেন, চেয়ারম্যানের পিএ-২ রেজাউলসহ যে সিন্ডিকেটটি বিআরটিএ-কে অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণাদিসহ শিগগিরই বিআরটিএ চেয়ারম্যানের সাথে দেখা করা হবে এবং ঘটনার আনুষ্ঠানিক জবাব চাওয়া হবে।
সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের দাবি—এডি শেখ ইমরান ও তার সহযোগী মিস্ত্রি মিরাজের অবৈধ সম্পদের হিসাব নিতে এবং বিআরটিএ-র ভাবমূর্তি বাঁচাতে অনতিবিলম্বে তাদের কক্ষের সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করে অডিট তদন্ত শুরু করা আবশ্যক।
