যশোর প্রতিবেদক:
যশোর জেলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে একজন এইচআইভি পজিটিভ মায়ের সিজারিয়ান সেকশন অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব সাফল্যের সাথে সম্পন্ন হয়েছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. হারুন- অর- রশিদ জানান, সম্প্রতি এক নারী গর্ভাবস্থায় হাসপাতালে নিয়মিত চেকআপের জন্য আসেন। এসময় তার এইচআইভি আক্রান্তের বিষয়টি ধরা পরলে, হাসপাতাল আবাসিক সার্জন গাইনি বিভাগ বিশেষজ্ঞ ডা. নিলুফার ইয়াসমিনের তত্ত্বাবধানে তিনি চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তে ও সিভিল সার্জন মহোদয়ের পরামর্শক্রমে, একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম গঠন করে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয় এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শে, ২৭ আগস্ট তার সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করানো হয়েছে।
এই মুহূর্তে মা ও নবজাতক সুস্থ আছেন এবং চিকিৎসক দলের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস জানান, “সকল রোগীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করাই আমাদের কর্তব্য। সীমিত জনবল নিয়ে আমরা বিপুল জনগোষ্ঠীর সেবা দিতে হিমশিম খাই। তার মাঝেও সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকে সকলের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা। তবে এই রকম ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে সবাই যখন এড়িয়ে চলে তখনও কিন্তু চিকিৎসকরা নীরবে নিভৃতে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েও এমন সেবা দেন। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাগণ ও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মহোদয়কে আমি সাধুবাদ জানাই ও জেলা স্বাস্থ্যবিভাগের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।”
ঝুঁকিপূর্ণ এই অস্ত্রোপচারের পূর্বে ৫ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের সদস্যরা হলেন হাসপাতালের আবাসিক সার্জন গাইনি বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডা. নিলুফার ইয়াসমিন, হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. জাফর ইকবাল, ডা. মাসকিয়া জান্নাতি, জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. ইদ্রিস আলী ও রেজিস্ট্রার ডা. গোলাম মোর্তুজা।
এভাবেই সকল কঠিন পরিস্থিতিতে, সেবার আলোকবর্তিকা বহন করে চলেছে দেশের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
