মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি
মোহাম্মদ আনহার আলী
কুরবানীর ঈদ, ঈদুল আযহার আর মাত্র দিন বিশএক বাকি ।এরই মধ্যে প্রতিটি গরু খামারি ও তাদের পরিবার এর মধ্যে এক উৎসাহ উদ্দীপনা এবং উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। আর কয়েক দিনের মধ্যেই লালন পালন করা গরুগুলো গিয়ে উঠবে কুরবানীর হাটে, তাই চলছে সর্বশেষ প্রস্তুতি। সময় মত গরুগুলোকে সবুজ ঘাস, ভুসি চালের গুড়া, চিটা, খড়,পানি,দেয়ায় ব্যাস্ত খামারের মালিক, সাবান পানি শ্যাম্পু দিয়ে গরু গুলোকে গোসল দেওয়া হচ্ছে, ফ্যান চালিয়ে লাইট জ্বালিয়ে সার্বক্ষণিক গরুগুলোকে সেবা করছেন, দিচ্ছেন পাহারা।কয়েকজন খামার মালিকদের সাথে কথা বলে জানা যায় গরু লালন-পালন এবং পোষা এখন আর আগের মত সম্ভব নয় এর কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন সবকিছুর মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। যে যে ধানেরএক টিন ভুসি আগে ৩০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে ছিল সেই ধানের ভুসি এখন ১২০ টাকা, যে চিটার টিন থেকে সাড়ে চারশ টাকার মধ্যে ছিল এই চিটার টিন এখন ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা, এমনি করে প্রতিটি জিনিসের মূল্য বৃদ্ধি হওয়ায় গরু পালন এখন হাতি পালনের সমান বলে মনে করেন সৌখিন গরু পালনকারীরা। তারপরও এক বুক আশা নিয়ে দিন রাত কষ্ট করে নিজে না খেয়েও গরুকে খাইয়ে, নিজে গোসল না করেও গরুকে গোসল করিয়ে কুরবানীর হাটের জন্য প্রস্তুত করছেন ষাঁড় গুলোকে। দুই এক জন খামারীর মুখ থেকে শোনা যায় একদিকে যেমন তারা গরু বিক্রির জন্য টেনশনে আছেন সঠিক মূল্য পাবেন কিনা? অন্য দেশ থেকে গরু আসবে কিনা? এবং পরিশ্রম অনুযায়ী মূল্য পাবেন কিনা? আবার অন্যদিকে অন্তরে হাহাকার নিজের হাতে লালন পালন করে বড় করে তুলা গরুগুলো চলে যাবে অন্যের ঘরে এই কথা মনে করে আবার তাদের অন্তর কেঁদে ওঠে এ যেন সঠিক মূল্যে বিক্রি করতে পারবে কিনা এক যন্ত্রণা! নিজের হাতে পালন করা গরুগুলো তুলে দিবে অন্যের হাতে এ আরেক যন্ত্রনা! জেলার শ্রীমঙ্গল কমলগঞ্জ মৌলভীবাজার কুলাউড়া জুড়ি বড় লেখা র বেশ কয়েকজন গরু খামারী জানালেন এরই মধ্যে মৌসুমী গরু ব্যবসায়ীরা সৌখিন গরু ক্রেতারা ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। তাদের খামারে দূর দূরান্ত থেকে গরু ক্রেতারা আসছেন গরু দেখছেন দরদাম সাব্যস্ত করছেন, কোন কোন খামারি কোরবানির পূর্ব পর্যন্ত ভালো দামের আশায় অপেক্ষা করবেন বলেও জানিয়েছেন। তবে এবার গরুর ভালো মূল্য পাবেনএ আশায় বুক বেঁধে আছেন, অনেক গরুর মালিক, লাইভ ওয়েটে গরু বিক্রি করতে রাজি আছেন অনেক গরু মালিক তবে ছোটখাটো খামারিরা ওয়েট মেশিনের অভাবে লাইভ ওয়েটে গরু বিক্রি করতে পারছেন না বলেও দুঃখ প্রকাশ করছেন। কিছু খামারিরা জানান দেশি গরুর চাহিদা খুবই বেশি এরই মধ্যে ব্রাহাম্মা, শাহীওয়াল ভুটানি গরু এবং জার্সি গরুর পাশাপাশি মহিষের চাহিদাও ব্যাপক, গরু মহিষের পাশাপাশি অনেকেই ছাগল খাসি ভেড়া ইত্যাদিও কুরবানি দিয়ে থাকেন তাদের বাজেট অনুযায়ী। চামড়ার রং আকৃতি এবং গঠন সৌন্দর্যের উপর গরুর মূল্য নির্ধারিত হয়।
