
নাসিম আহমেদ শিমুল,কালিয়াকৈর(গাজীপুর) প্রতিনিধি :
সাকিব(২০)রাকিব(২০) উভয় পিতা আঃ রহিম, রিয়ন(১৮) পিতা খাইরুল ইসলাম। নিহত সাব্বির(২০) পিতা মৃত মোশাররফ উদ্দিন লিটন।ওরা একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।মহল্লায় একসাথেই আড্ডা ও ঘুরা ফেরা করে।সাকিব ও রাকিব জমজ ভাই,এইসএসসিতে পড়ে।নিহত রাকিব এসএসসিতে ফলাফল খারাপ হওয়ায় নতুন করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।প্রতিদিনের ন্যায় গত ৯ সেপ্টেম্বর সোমবারও ওরা চারজন ও সাথে আরও দু এক বন্ধু এসে আড্ডা দিচ্ছিল সাকিব ও রাকিবদের ইউনিক টাওয়ারের১০তলার ছাদে।রাত সাড়ে আটটার দিকে রাকিব ও সাকিবের পরিকল্পনা অনুযায়ী ওদের বন্ধু রিয়নকে পিয়াজু ও মুড়ি মাখানোর জন্য একটি বড় প্লেট নিয়ে আসতে বলে এবং ওদের অপর বন্ধুকে পিঁয়াজু ও মুড়ি আনতে দোকানে পাঠায়।এই সুযোগে সাকিব ও রাকিব দুই ভাই ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাব্বিরকে উপর্যুপুরি কুপিয়ে ইউনিক টাওয়ারের দশ তলার ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেয়।বিকট শব্দে এবং নিহত সাব্বিরের আর্তচিৎকারে আশপাশের মানুষ এগিয়ে এলে ততক্ষণে সাকিব ও রাকিব ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়।কথাগুলো বলছিল নিহত সাব্বির ও সাব্বিরের হত্যাকান্ডে অভিযুক্ত সাকিব ও রাকিবের বন্ধু রিয়ন।
সাকিব ও রাকিব কেন সাব্বিরকে হত্যা করল বিষয়টি জানতে চাইলে রিয়ন বলেন,নিহত সাব্বিরের নিকট সাকিব ও রাকিবের আপত্তিকর ভিডিও ছিল,সেই ভিডিও সাব্বিরের মোবাইল ফোনে একটি অ্যাপসের মাধ্যমে পাসওয়ার্ড দিয়ে সংরক্ষণ করা অবস্থায় ছিল।ঐ আপত্তিকর ভিডিও নেয়ার জন্য সাকিব ও রাকিব বিভিন্ন সময় সাব্বিরকে অনুরোধ করলেও সাব্বির বিষয়টি এড়িয়ে যায় বলে জানিয়েছে নিহত সাব্বিরের বন্ধু রিয়ন।মূলত ওই আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে অন্তর দ্বন্দ্বে সাকিব ও রাকিব সাব্বিরকে হত্যা করে।
নিহত সাব্বির স্থানীয় ড্যাফোডিল স্কুল থেকে এবারও এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। নিহত সাব্বির তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তৃতীয়। নিহত সাব্বিরের মা সুফিয়া খাতুন ছেলের এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে আহাজারি করছেন ও বারবার মোর্ছা যাচ্ছেন। তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে তার ছেলের এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছেন।
এ ঘটনায় নিহত সাব্বিরের বড় ভাই মহিউদ্দিন আবির বাদী হয়ে সাকিব ও রাকিবের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত ২-৩ জনকে আসামি করে কালিয়াকৈর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।কালিয়াকৈর থানার অফিসার ইনচার্জ এএফ এম নাসিম জানান, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে।নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতারে জোর চেষ্টা চলছে।
| উত্তরফরওয়ার্ডপ্রতিক্রিয়া যোগ করুন |