
: রিয়া মনি
ইডেন মহিলা কলেজ কর্তৃপক্ষ গত বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) সাংবাদিক সমিতির কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছে। কলেজ অধ্যক্ষ ড. সামছুন্নাহারের স্বাক্ষরিত নোটিশে জানানো হয়, সমিতিটি বর্তমানে পুনর্গঠন ও গঠনতন্ত্র অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন। তাই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংবাদ প্রেরণসহ সকল কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। নোটিশটি কলেজের প্রতিটি বিভাগে পাঠিয়ে শিক্ষার্থীদের অবগত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা এই সিদ্ধান্তকে একপাক্ষিক ও অযৌক্তিক বলে মনে করছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, এই বিষয়ে তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা মতামত নেওয়া হয়নি। সাংবাদিক সমিতির সদস্য তামান্না আক্তার বলেন,
“সাংবাদিক সমিতি একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংগঠন। অধ্যক্ষের একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত আমাদের হতাশ করেছে। আমাদের মতামত বা আলোচনা ছাড়াই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আমরা মেনে নিতে পারছি না।”
একাধিক সূত্র জানায়, কিছুদিন আগে সাংবাদিক সমিতির আহ্বায়ক স্মৃতি আক্তারের সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রতিবেদন প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া প্রকাশিত হয়। বিষয়টি নিয়ে উপসচিব পর্যায়ে ক্ষমা প্রার্থনা করলেও অধ্যক্ষ ক্ষুব্ধ হন এবং সমিতির কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন।
এই সিদ্ধান্তের ফলে কলেজের অনেক শিক্ষার্থী উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ। তারা বলছেন, সাংবাদিক সমিতি স্বাধীনতার প্রতীক। সেখানে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ মানে বাকস্বাধীনতার লঙ্ঘন।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, শিক্ষার্থী সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি গণতন্ত্রের বুনিয়াদ। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রোধ করলে ভবিষ্যতের নেতৃত্ব বিকশিত হতে পারবে না।
উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেকেই যে, ইডেন কলেজের এই কঠোর পদক্ষেপ অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নজির হয়ে যেতে পারে, যা শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশ বন্ধ করে দিলে বাহ্যিকভাবে হয়তো সুশৃঙ্খলতা দেখা যাবে, কিন্তু ভেতরে তা দমনমূলক পরিবেশ তৈরি করবে।
এবার প্রশ্ন উঠে—
কলেজ কর্তৃপক্ষ কেন এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে?
তারা কি নিজেদের প্রতিষ্ঠানের কোনো দুর্বলতা বা গোপনীয়তা সংবাদমাধ্যমের চোখ থেকে লুকাতে চাইছে?
শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশ ও বাকস্বাধীনতার ওপর আরোপিত এই বিধিনিষেধ কি গণতন্ত্রের জন্য হুমকি?
ভবিষ্যতের নেতৃত্ব কি নীরবতা বজায় রাখবে, নাকি নিজের কণ্ঠ উঁচু করবে?