
কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাবেক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমানুল্লাহ আল মামুন বদলিজনিত কারণে গত ২১ এপ্রিল কর্মস্থল ত্যাগ করলেও দীর্ঘ দেড় মাস পার হয়ে গেলেও তিনি নবনিযুক্ত কর্মকর্তা ডা. এ. এম. আশরাফুল আলমের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব ও ক্ষমতা হস্তান্তর করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে হাসপাতালের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ডা. আমানুল্লাহ আল মামুনের বদলির আদেশ জারি হলে নতুন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে ডা. এ. এম. আশরাফুল আলম যোগদান করেন। তবে এখনো দায়িত্ব হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় আর্থিক খাতের বিভিন্ন ফাইল, বিল-ভাউচার অনুমোদন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন বিল পরিশোধ, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়, অফিস পরিচালনাসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ফলে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সূত্রগুলো আরও জানায়, গত ২১ এপ্রিল বদলির আদেশ পাওয়ার পর থেকে ডা. আমানুল্লাহ আল মামুন আর কর্মস্থলে আসেননি। তিনি বদলি আদেশ স্থগিত বা পরিবর্তনের চেষ্টা চালাতে ঢাকায় অবস্থান করছেন বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে ডা. আমানুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী জানান, নতুন কর্মকর্তা দায়িত্ব গ্রহণ করলেও প্রশাসনিক ক্ষমতা পুরোপুরি না পাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে হচ্ছে। এতে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
দেড় মাস ধরে দায়িত্ব হস্তান্তর না হওয়ায় বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের প্রশাসনিক অচলাবস্থা কোনোভাবেই কাম্য নয়। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে সাধারণ রোগী ও স্বাস্থ্যসেবার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নবনিযুক্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ. এম. আশরাফুল আলম বলেন, “আমার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর না করায় খুব বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে—এমনটি নয়। তবে সাবেক কর্মকর্তা ডা. আমানুল্লাহ আল মামুন ওটিপির মাধ্যমে অন্য কর্মস্থল থেকে কিছু বিষয় সমাধান করছেন।”
দৈনন্দিন আর্থিক কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কি আর বলবো, কিছুটা সমস্যা তো হচ্ছেই।”
এ পরিস্থিতিতে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, দায়িত্ব হস্তান্তর প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করা জরুরি।