
কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার বড় বামনদা গ্রামে গভীর রাতে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে একটি চা ও মুদি দোকান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক তিনটার দিকে কাপড় ও বোতলে রাখা কেরোসিন তেল ব্যবহার করে আগুন ধরানো হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এতে মুহূর্তেই দোকানটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়, সর্বস্ব হারায় একটি পরিবার।
ভুক্তভোগী দোকান মালিক ইয়াহিয়া জানান, আগুনের বিষয়টি প্রথমে তার ভাইয়ের ছেলে তাকে অবগত করেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ছুটে এসে পানি ঢেলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে তার আগেই দোকানের সব মালামাল পুড়ে যায়।
কারা বা কী কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছে—এ বিষয়ে নিশ্চিত কিছু না জানালেও ইয়াহিয়া বলেন, তার কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত কোনো দ্বন্দ্ব বা ফ্যাসাদ নেই। তবে তার দোকানে স্থানীয়ভাবে জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের কর্মী-সমর্থকেরা নিয়মিত চা খেতে ও আড্ডা দিতে আসতেন। এ কারণেই বিরোধীপক্ষের কেউ এই নাশকতার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
ইয়াহিয়া আরও বলেন, “আমার পরিবারের ছয়জন সদস্যের একমাত্র আয়ের উৎস ছিল এই দোকান। আগুনে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন পরিবার কীভাবে চলবে—তা ভেবে দিশেহারা।” তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পাশাপাশি দোকানটি পুনরায় সচল করতে এলাকার বিত্তবানদের সহযোগিতার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর মডেল থানার ডিউটি অফিসার সাব-ইন্সপেক্টর গঙ্গা বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে এখনো থানায় কেউ অবগত করেনি এবং কোনো লিখিত অভিযোগও পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, গভীর রাতে সংঘটিত এ নৃশংস ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করা হোক এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাই এগিয়ে আসুক।