
হিলি প্রতিনিধিঃ
হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আলু আমদানি স্বাভাবিক থাকলেও আমদানি করা আলু গুদামে মজুত রাখার ব্যবসায়ীরা। তবে গত কয়েকদিন ধরে হিলিতে বয়ে চলা তাপদহের কারণে আমদানি করা আলুতে পচন ধরেছে এতে বিপাকে পড়েছেন হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা। এতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ আলু ফেলে দিতে হচ্ছে। এদিকে প্রতিদিন ক্ষতির মুখে পড়েছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা। এদিকে গুদামের সামনে ফেলেরাখা পচা আলুর দুর্গন্ধে বিপাকে পড়েছেন পথ চারি আশপাশের মানুষ।
আমদানি রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশিদ হারুন বলেন, হিলিতে কয়েকদিন থেকে কিছুটা তাপমাত্রা উঠা নামা করছে বর্তমান ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকছে। এদিকে গরমেন কারণে ভারত থেকে আমদানি করা আলু বন্দর থেকে খালাস করে তা গুদামে রাখা হচ্ছে এখান থেকে বেচা-কেনা করা হবে। আমদানি করা এসব আলু তুলনামূলক দাম কিছুটা বেশি হওয়ায় ও ক্রেতা সংকটের কারণে আলু বিক্রি হচ্ছে না। এদিকে তীব্র গরম ও বিদুৎ ঠিকমতো না থাকার কারণে আলু পচে নষ্ট হওয়ায় ফেলে দিতে হচ্ছে।
হিলি স্থলবন্দর আমদানিকারক আব্দুল সালাম বলেন, ‘দেশের বাজারে আলুর সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারত থেকে আলু আমদানি করছেন আমদানিকারকরা। ভারতে দাম কিছুটা কম থাকায় ও দেশের বাজারে চাহিদা থাকায় আমদানি করা হচ্ছে। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে যে গরম পড়েছে, এতে আলু পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে- যা আমাদের ফেলে দিতে হচ্ছে। প্রতিটি বস্তা থেকে দুই থেকে আড়াই কেজি করে পচা আলু বের হচ্ছে। এর ফলে আমদানিকারকরা লোকসানের মুখে পড়ছেন।’
এম আর ট্রেডার্সের ম্যানেজার রতন সরকার বলেন, ভারত থেকে আমদানি করা কাটিনাল জাতের আলু প্রতি কেজি আলু প্রকারভেদে ৩৬ থেকে ৩৮ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এদিকে গুদামে রাখা পচে নষ্ট হয়ে যাওয়া বস্তা আলু ফেলে দিতে হচ্ছে। শুধু গুদামে নষ্ট হচ্ছে তা নয়। ভারত থেকে আনার সময়ও ট্রাকেই নষ্ট হচ্ছে ২-৩ টন করে। এতে এবার আলু আমদানি করে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।’
আলু বাছাই কাজে নিয়োজিত আয়শা বেওয়া বলেন, গুদাম গুলোতে আলু পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা ওই সব গুদামে আলুর বস্তা গুলো গুদামে মাঝাতে ঢেলে বাছাইয়ের কাজ করছি। বস্তা থেকে পচা আলুগুলো বাছাই করে আলাদা করছি। ভালোগুলো আলাদা করে রাখছি। এতে সারাদিন কাজ করে আমারা মজুরি পাই ২০০ টাকা। এখানে আমরা ৫ জন কাজ করি।
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আলু আমদানি অব্যাহত রয়েছে। আলু যেহেতু কাঁচাপণ্য ও দ্রুত পচনশীল তাই কাস্টমসের প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত যেন খালাস করে নিতে পারে সেজন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ সব ধরনের ব্যবস্থা রেখেছে।