
স্টাফ রিপোটার
বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড় হওয়ায় হিমালয়ের কন্যা বলা হয়। তাই পঞ্চগড় হিমালয় থেকে ধেয়ে আসা মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের ফলে আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবের দেখা মিলেছে। পঞ্চগড় জেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিনই নামছে তাপমাত্রার পারদ। এ কারণে বাড়ছে শীতের দাপট। পড়ছে বৃষ্টির মতো কুয়াশা। রাত-দিন পর্যন্ত কনকনে শীতে মানুষ জবুথবু হয়ে পড়েছে। বেশি কষ্ট পাচ্ছে শিশু ও বয়স্করা।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বেশ কয়েকদিন হলো অব্যাহত আছে শৈত্যপ্রবাহ। জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বিস্তার লাভ করেছে। পঞ্চগড় জেলাসহ কয়েকটি জেলায় তীব্র শীতের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রারও ওঠানামা করছে। জেলার পাচটি উপজেলায় তাপমাত্রার পরিমাণ কমে আসছে, পরিস্থিতি আরেকটু অবনতি হয়েছে। তেঁতুলিয়ায় দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা
সরেজমিনে দেখা যায়, শৈত্যপ্রবাহ ফলে তাপমাত্রা কমতে থাকে সাথে ঘন কুয়াশা ঢেকে থাকে সারা আকাশ। যার ফলে সমস্যা পোহাতে হচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষদের। দিনের বেলাতেও গাড়ির হেড লাইড জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা যায় পরিবহণ। একটু সামনে দেখা যায়না কুয়াশার জন্য এতে পরিবহণ চলকরা সমস্যা হচ্ছে।
ভোরের বাংলা নিউজের সাথে কথা হয় স্থানীয় কৃষক মতিন সরকারের সাথে। তিনি যানান যে, মাঠে কাজ করতে গেলে প্রচন্ড সমস্যা পোহাতে তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশা শরীর যেনো হিম হয়ে আসে। জমির আগাছা পরিস্কার করতে হবে সামনে ধান লাগাতে হবে। এভাবে যদি শীতের প্রভার অব্যাহত থাকে তাহলে অনেক কষ্টের মাধ্যমে কাজ করতে হবে।
এদিকে শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে হাড়কাঁপানো শীতে কাবু হয়ে পড়েছে প্রায় সারাদেশের মানুষ। ঘনকুয়াশা ও তীব্র ঠান্ডায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। শীতবস্ত্র বা গরম কাপড়ের অভাবে প্রান্তিক জনপদে শীতার্ত মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। শীতের তীব্রতায় জনজীবন অনেকটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
দেখা যায়, এলাকার বিভিন্ন বাজারে দোকানপাট সন্ধার পরপরই বন্ধু করে দেন। কারণ শীতের তীব্রতায় বাহিবে ক্রেতার সংখ্যা না থাকায় দোকান বন্ধ করতে হচ্ছে। তাছাড়া বাজারে বিভিন্ন যায়গায় আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের দুশ্যও দেখতে পায় ভোরের বাংলা নিউজ প্রতিবেদক।
এছাড়াও জানান, পঞ্চগড়, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, বাজশাহী, নীলফামারী, রংপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গাসহ আরো অন্যান্য জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ চলছে।
‘মাঘের শীত বাঘের গায়ে লাগে’ গত কয়েকদিন ধরে এ প্রবাদ সত্য হয়ে এসেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জীবনে।
ভোরের বাংলা নিউজের সাথে কথা হয় এক রাজমিস্ত্রি আনছার আলীর সাথে, তিনি যানান শীতের তীব্রতা এতটাই প্রকট যে, ১০ থেকে ২০ কাজ করলেই হাতদিয়ে আর কোনো কিছু ধরা যায়না। ঠান্ডায় হাতে শক্তি যেনো কমে আসে কাজ করা অসম্ভাব হয়ে পরেছে।
বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষগুলো। যারা প্রতিনিয়ত মাঠে শ্রম দিয়ে অন্য জোগাড় করতে হয়। তীব্র শীতের কারণে কাজে যেতে পারছে না তারা। ব্যাহত হচ্ছে কৃষিকাজ। প্রচণ্ড ঠান্ডায় দেখা দিচ্ছে শীতজনিত নানা রোগ। সর্দি কাশি বিশেষ করে যাদের শ্বাস কষ্টের সমস্যা আছে তাদের রোগের মাত্রা বেড়েই চলছে।
সরিষা চাষি জানান, ঘন কুয়াশায় সরিষার ফুলের সমস্যা হচ্ছে। সরিষায় প্রতিনিয়ত কুয়াশা কাঁটা স্প্রেরে করতে হচ্ছে এতে খরচের পরিমান বেড়ে চলছে। তাছাড়া গাছ ঠান্ডার কারণে ঝিম ধরে আছে। এই ঠান্ডায় যেনো কৃষির নানাবিধ সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে যানান ভোরের বাংলা নিউজকে।
আরো দেখা যায় যে, শীত, কুয়াশা, সাথে হিমেল বাতাস যার ফলে শীত কীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। শীত নিবারণের জন্য মানুষ খরকুটো দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে ঠান্ডা নিবারণের চেষ্টা দৃশ্য ধরা পড়ে “ভোরের বাংলা নিউজের সাথে কথা হয় এক কাকিমার সাথে শীত সম্পর্কে যানতে চাইলে বলে, বাপো আজি যেনং কুয়াশায় সেনং ঠান্ডা, একেলকা জীবন শেষ, এলা কাম করিবা যাবা হোবে? ঠান্ডায় আর নাযায় এলা বাচিবা তো হোবে, বাচিলে না কাম করিমো। এমনটাই যানান তিনি।