
লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি :
নড়াইলের লোহাগড়াসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বৈরী আবহাওয়ার কারণে বোরো ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানো নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা। কয়েকদিনের টানা ঝড়-বৃষ্টি আর দমকা হাওয়ায় অনেক মাঠের পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও কাটা ধান ভিজে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে মাথায় হাত পড়েছে কৃষকদের।
কৃষকরা বলছেন, একদিকে শ্রমিক সংকট, অন্যদিকে অনবরত বৃষ্টির কারণে ঠিকমতো ধান ঘরে তুলতে পারছেন না তারা। মাঠে পানি জমে থাকায় ধান কাটতেও বাড়ছে খরচ। আবার কষ্ট করে ধান ঘরে তুললেও বাজারে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত দাম। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়েও কম দামে বাধ্য হয়ে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
লোহাগড়া উপজেলার কৃষক আব্দুল হালিম বলেন, “বৃষ্টি আর ঝড়ে ধান কাটাই কঠিন হয়ে গেছে। অনেক জমির ধান পানির নিচে। এখন যে দামে ধান বিক্রি হচ্ছে, তাতে উৎপাদন খরচই উঠবে না।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নড়াইল জেলার তিন উপজেলায় মোট ৫০ হাজার ৩০৯ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন ধান।
নড়াইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বলেন, “এবার জেলায় বোরো ধানের আবাদ ও ফলন দুটোই ভালো হয়েছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কিছু এলাকায় কৃষকরা সমস্যায় পড়েছেন। মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের দ্রুত ধান কাটা, মাড়াই ও সংরক্ষণের বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন। পাশাপাশি হারভেস্টার মেশিন ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হলে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন বলে আশা করছি।”
এদিকে কৃষকরা বলছেন, আবহাওয়ার ঝুঁকি আর বাজারে কম দামের কারণে ধান চাষ এখন লোকসানের খাতে পরিণত হচ্ছে। দ্রুত সরকারি ক্রয় কার্যক্রম জোরদার এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা।