
নীলফামারী প্রতিনিধি:
মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং সামাজিক অনাচার প্রতিরোধে এক সচেতনতামূলক ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে র্যাব-১৩।
এরই ধারাবাহিকতায় ২৯ জুলাই (বুধবার) নীলফামারী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের প্রধানগণদের নিয়ে ‘মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ’ বিষয়ক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে র্যাব-১৩ রংপুর, সিপিসি-২, নীলফামারী।
অনুষ্ঠানে নীলফামারীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, যুবসমাজ, শিক্ষক, মসজিদের ইমামসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে সিপিসি-২ নীলফামারীর কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মো. আশরাফুল কবীরের সভাপতিত্বে এবং এসআই পলাশের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারীর জেলা প্রশাসক ও যুগ্ম সচিব জনাব মোহাম্মদ নাযিরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব মোহসীন আলী এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আনিসুর রহমান খান।
সভায় প্রধান ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ যুবসমাজ ও আমন্ত্রিত সুধীজনের সামনে মাদকের কুফল, ক্রমবর্ধমান অনলাইন জুয়ার প্রাদুর্ভাব, বাল্যবিবাহ ও যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, মাদক কেবল একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবার ও সমাজকে ভেতর থেকে পঙ্গু করে দেয়। এসব অপরাধ দূরীকরণে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, অপরাধীদের সামাজিকভাবে বয়কট এবং বিপথগামী তরুণদের আলোর পথে ফিরিয়ে আনার গুরুত্ব নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়।
মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রী ও যুবসমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত অতিথি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের কাছে শহরের বর্তমান প্রেক্ষাপট বিশেষ করে মাদক ও অনলাইন জুয়ার অবাধ বিস্তার নিয়ে সরাসরি বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। তারা এসব সমস্যা দূরীকরণে তরুণ প্রজন্মের ভাবনা ও বাস্তবসম্মত নানা সমাধানের প্রস্তাব তুলে ধরেন।
মতবিনিময় সভায়, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করে জানানো হয় যে, মাদক ও অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা, মাদক কারবারিদের অর্থের উৎস অনুসন্ধান এবং পাড়া-মহল্লায় সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি গঠনের মাধ্যমে সমাজকে অপরাধমুক্ত রাখতে প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একই সাথে অনলাইন জুয়ার মতো নতুন প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাইবার নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক ও সমাজের সচেতন মানুষকে এ লড়াইয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।