
টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি
রাহিদ রানা
টাঙ্গাইলের মধুপুরে পরিবেশবান্ধব উপায়ে আগাম জাতের ফুলকপি চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখছেন স্থানীয় কৃষকেরা। উপজেলার মির্জাবাড়ী ইউনিয়নের দড়িহাসিল গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন জাতের ফুলকপি চাষ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন কৃষক মোঃ রায়হান কাজী। শীত আসার আগেই বাজারে ভালো দামে এই কপি বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।
জানা যায়, কৃষক রায়হান কাজী বগুড়া থেকে খবর পেয়ে সরাসরি সেখানে গিয়ে ‘উইনার’ ও ‘ক্যাপ্টেন’ নামের দুই নতুন জাতের ১৬ হাজার ফুলকপির চারা সংগ্রহ করেন। এরপর মধুপুর উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে ৭০ শতাংশ জমিতে এই চারা রোপণ করেন। সম্পূর্ণ রাসায়নিক সার ও কীটনাশকমুক্ত উপায়ে শুধু জৈব সার ব্যবহার করে তিনি এই চাষাবাদ করছেন। চারা রোপণের ৬০ থেকে ৬৫ দিনের মধ্যে গাছে ফুল আসে এবং সার্বিক জীবনকাল ৯০-৯৫ দিন। বর্তমানে প্রতিটি গাছে বেশ কটি করে পাতা এসেছে এবং দ্রুতই গাছে কাঙ্ক্ষিত ফুল আসবে।
কৃষক রায়হান কাজীর এই সফলতা দেখে উৎসাহিত হচ্ছেন আশপাশের এলাকার চাষিরাও। মির্জাবাড়ী ইউনিয়নের স্থানীয় কৃষক শাহজালাল জানান, রায়হানের সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর বাগান দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনিও আগামীতে এই আগাম জাতের চারা রোপণের পরিকল্পনা করছেন। একই কথা জানান পার্শ্ববর্তী ধনবাড়ী কয়রা এলাকা থেকে বাগান দেখতে আসা কৃষক আব্দুর রাজ্জাক। তিনিও আগামী মৌসুমে প্রায় দুই বিঘা জমিতে এই নতুন জাতের কপির আবাদ করবেন বলে জানান।
এ বিষয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, চারা রোপণের ৬০ দিন পর থেকেই কুঁড়ি আসতে শুরু করে। ভালো ফলন ও কৃষকেরা যাতে পণ্যের সঠিক মূল্য পান, সেজন্য কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত সব ধরনের কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
মধুপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মমতাজ বেগম জানান, আগাম জাতের ফুলকপি যেমন সুস্বাদু, তেমনই এর ভেষজ গুণও রয়েছে। প্রণোদনের মাধ্যমে কৃষি অফিসারে সহায়তায় মধুপুর উপজেলার ২ হেক্টর জমিতে এবার প্রদর্শনীর মাধ্যমে এ চাষ সম্প্রসারিত করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সার ও সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। এই লাভজনক চাষ পদ্ধতি ভবিষ্যতে উপজেলার আরও অনেক কৃষককে আগাম সবজি চাষে উৎসাহিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।