
টাংগাইল জেলা প্রতিনিধি
রাহিদ রানা
টাঙ্গাইলে স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) টাঙ্গাইলের সিনিয়র দায়রা জজ মো. হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডিত আবদুল গফুর (নামটি প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী) টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার মালেঙ্গা গ্রামের মৃত কালু শেখের ছেলে।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে ঘাটাইল উপজেলার মাকড়াই গ্রামের মৃত কোপাত আলীর মেয়ে সেলিনা খাতুনের সঙ্গে আবদুল গফুরের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে চার সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।
ঘটনার প্রায় তিন মাস আগে স্বামী আবদুল গফুরের বিরুদ্ধে আদালতে যৌতুকের মামলা করেন সেলিনা খাতুন। ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর ওই মামলা আপস-মীমাংসার উদ্দেশ্যে স্থানীয় ইউপি সদস্যের বাড়িতে যান তিনি। বিকেলে সেখান থেকে ফেরার পথে গফুর মামলা তুলে নেওয়ার জন্য সেলিনাকে চাপ দেন। তবে তিনি মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় গফুর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
পরে গফুর সেলিনাকে একটি নির্জন জঙ্গল এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে ওড়না দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ পাশের একটি ডোবায় ফেলে পালিয়ে যান গফুর।
পরদিন ২১ নভেম্বর বিকেলে মাকড়াই গ্রামের ইমান আলীর বাড়ির দক্ষিণ পাশের জঙ্গল থেকে সেলিনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহত সেলিনার ভাই মো. আবদুল মান্নান বাদী হয়ে ঘাটাইল থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ আবদুল গফুরকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘাটাইল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাজ্জাদ হোসেন ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় মোট ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন টাঙ্গাইলের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. শফিকুল ইসলাম রিপন। রায় ঘোষণার পর দণ্ডিত আবদুল গফুরকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।