
লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি :
নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ইকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে শিক্ষাগত যোগ্যতার জাল সনদ দিয়ে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থেকে প্রভাব বিস্তার, অফিস ফাঁকি, দায়িত্ব পালনে অনিয়ম এবং বিভিন্ন সেবা নিতে আসা মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, ইকরাম হোসেন ২০০৬ সালে খুলনার নোয়াপাড়া পৌরসভায় চাকরি শুরু করেন এবং ২০১৬ সালে লোহাগড়া পৌরসভায় যোগ দেন। অভিযোগকারীদের দাবি, তার নিয়োগ ও যোগদানের সময় শিক্ষাগত সনদ যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। তবে জাল সনদের অভিযোগ এখনো কোনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জন্মনিবন্ধন, মৃত্যু নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সনদে নামের বানান ও তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার সুবাদে তিনি একটি প্রভাবশালী বলয় গড়ে তুলেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া নড়াইল শহরে আলিশান বাড়ি নির্মাণ ও বিভিন্ন স্থানে নামে-বেনামে সম্পদ অর্জনের অভিযোগও উঠেছে। পরিবারের সদস্যদের নামেও বিপুল সম্পদ থাকার দাবি করা হলেও এসবের উৎস ও মালিকানা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগকারীদের দাবি, ইকরাম হোসেন অনেক সময় অফিসে এসে হাজিরা দিয়ে ব্যক্তিগত কাজে চলে যান। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পৌরসভায় একাধিকবার গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি এবং মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সংবাদ প্রকাশের উদ্যোগের খবর পেয়ে বিষয়টি ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে; তবে এর স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
লোহাগড়া পৌরসভার পৌর সচিব (অতিরিক্ত) তৌফিকুল আলম বলেন, “জাল সনদের বিষয়টি আমি অবগত নই। তার বিরুদ্ধে অন্যান্য অভিযোগ তদন্ত করে প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক (চলতি দায়িত্ব) মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আমি নতুন এসেছি। বিষয়টি শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে জাল সনদসহ অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে ইকরাম হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।
অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে তার নিয়োগের সময় দাখিল করা শিক্ষাগত সনদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের রেকর্ড, নিয়োগসংক্রান্ত নথি এবং আয়-সম্পদের তথ্য যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।