
টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি
রাহিদ রানা
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার কুড়িপাড়া এলাকায় একই জমি দুইপক্ষ মালিকানা দাবি করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।উপজেলার কুড়িপাড়া মৌজার সিএস ৮১৩ ও ৮১৪ নং দাগে ১২ আগস্ট ১৯৪১ সালে হাকিম উদ্দিন সেকের নিকট থেকে মো.ওয়াহেদ আলী সেক ২১শতাংশ জমি সাব কবলা দলিলে ক্রয় করেন এবং ওই একই দাগ খতিয়ানে ৩ নভেম্বর ১৯৪৩ সালে মোহাম্মদ আলী সেকের নিকট থেকে আরো ১৫ শতাংশ জমি সাব কবলা দলিলে ক্রয় করার পর ওয়াহেদ আলী সেক একই দাগ খতিয়ানে ৬২ শতাংশের কাতে ৩৬ শতাংশ জমির মালিক হন।পরবর্তীতে ওয়াহেদ আলী মৃত্যুর পর ১৯৬২ সালে আরএস জরীপ আগত হইলে ৩৬ শতাংশ জমি হইতে ২৪ শতাংশ জমি পলান গংদের নামে রেকর্ডভুক্ত হয় এবং বাকী ১২ শতাংশ জমি জৈনক আঃ গফুর গংদের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়।উল্লেখ্য,১২ শতাংশ জমি গফুর গংদের নামে কি মূলে আরএস রেকর্ড হয় সেই তথ্য কোন পক্ষের জানা নেই।এরপর বিআরএস জরীপ শুরু হইলে বিআরএস ২৫১১ নং দাগে পলান গংদের নামে ২৪ শতাংশ এবং ১২ শতাংশ জমি গফুরের পরবর্তী ওয়ারিশানগনের নামে রেকর্ড হয়।সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় উভয় পক্ষের সঙ্গে।
একপক্ষ,তোফাজ্জল হোসেন তারিমুদ্দিনের সঙ্গে কথা হলে ২টি দলিলমুলে ওয়াহেদ আলীর ৩৬ শতাংশের মালিকানা স্বীকার করে বলেন,১২ শতাংশ জমি আমার মামা গফুরের নামে আরএস রেকর্ড হয় এবং আমার মায়ের নিকট হইতে আমরা ওয়ারিশ সূত্রে মালিক হই এবং পরবর্তীতে ওয়ারিশ সূত্রে আমাদের নামে শুদ্ধভাবে বিআরএস রেকর্ড হয়।আমরা আমাদের নিজ নামে নামজারি করিয়া পূর্বে থেকেই উক্ত জমি ভোগদখল করে আসছি।তিনি অভিযোগ করে বলেন,সম্প্রতি পলানের ছেলে যুবদল নেতা বাদল মিয়া রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আমার ছেলেকে মারধর করে আমার দখলকৃত ১২ শতাংশ জমি জবরদখলের চেষ্টা করছে এবং আমার জমিতে বেড়া দিয়েছে।আমি আদালতে মামলা দিয়েছি,আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আদালতের যেকোনো রায় মেনে নেব।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে আরেকপক্ষ যুবদল নেতা বাদল মিয়া বলেন,জমিটি আমার দাদা ওয়াহেদ আলী সিএস-এর মূল জোতদারদের নিকট হইতে ২টি সাব কবলা দলিলমুলে ক্রয় করে ৩৬ শতাংশের মালিক হন এবং সেখান থেকে আরএস জরীপের সময় ভুলবশত ১২ শতাংশ জমি অন্যের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়।সম্প্রতি দলিল খুঁজে পাওয়ায় দলিলমূলে আমরা জমি বুঝে নিয়েছি।জমির ধারাবাহিকতা সংশোধনের জন্য আদালতে মামলা করেছি,আইনের প্রতি সম্মান জানিয়ে আদালতের যেকোনো রায়কে আমরা স্বাগত জানাবো।পাশাপাশি আমার রাজনৈতিক ইমেজ নষ্ট করার জন্য সম্প্রতি স্বনামধন্য জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন পত্রিকায় আমাকে নিয়ে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে,আমি প্রকাশিত ওই সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।প্রত্যক্ষদর্শী ডালিমন নেছা,শামীম মিয়া,রুবেল মিয়া সহ স্থানীয়রা জানান,আজগানা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি বাদল মিয়ার সম্পত্তি দীর্ঘদিন বেদখলে ছিল।সেই জমিই তারা আবার দখলে নিয়ে বেড়া দিয়েছে।এটা তাদের প্রাপ্য সম্পত্তি,যেটার দলিল মূলে তারা মালিক।এখানে বাদল মিয়া ও তার পরিবারের সাথে কোন মারামারির ঘটনা ঘটেনি।মূলত প্রতিপক্ষরা ঘটনাস্থলেই আসেনি।বাদল মিয়া কোন দখলবাজ ব্যক্তি না,আমরা এলাকাবাসী তাকে খুব ভালোভাবেই চিনি ও জানি।স্হানীয় বর্তমান ইউপি সদস্য হাজী সানোয়ার হোসেন জানান,একপক্ষ ১৯৪১ ও ১৯৪৩ সালের দলিলমূলে এবং অপর পক্ষ আরএস ও বিআরএস রেকর্ড মূলে একই জমির মালিকানা দাবি করছে।দু’পক্ষই আদালতে মামলা করেছে।আমি দু’পক্ষকেই সংযত আচরণ এবং ধৈর্যধারণের আহবান জানাচ্ছি।আদালতের রায় পর্যন্ত সবাই যেন ধৈর্যধারন করেন,পাশাপাশি বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।মারামারির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বললেন,জমিতে কোন মারামারি হয়নি,অন্য কোথাও হয়েছে কি-না জানিনা।তবে কোনদিন বাদল মিয়া ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পাইনি।