
টাংগাইল জেলা প্রতিনিধি
রাহিদ রানা
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গোসাই জোয়াইর আজিম মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও শিক্ষক সুবীর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে ১০ লাখ টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বিজ্ঞানাগারের যন্ত্রপাতি কেনার জন্য সরকারি বরাদ্দের ১ লাখ টাকাও আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে একই নম্বরের একাধিক বিল ব্যবহার করে পরীক্ষার কাগজ ও প্রশ্নপত্র কেনার নামে বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে বিপুল অর্থ উত্তোলন করা হয়। টাঙ্গাইল উপজেলা শিক্ষক সমিতির ১৮৪ নম্বরের একই বিল চারবার ব্যবহার করে ৮৬ হাজার ৭০০ টাকা এবং উপজেলা শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্টের ৮৮০ নম্বরের একই বিল তিনবার দেখিয়ে আরও ৬১ হাজার টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া বিজ্ঞানাগারের যন্ত্রপাতি কেনার জন্য বরাদ্দ পাওয়া ১ লাখ টাকার বিপরীতে একটি কথিত প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া দরপত্র দেখিয়ে পুরো অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দাবিকৃত মালিক আনোয়ার জানান, তার নামে কোনো দোকান বা ট্রেড লাইসেন্স নেই এবং তিনি কখনও এ ধরনের সরঞ্জাম সরবরাহ করেননি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পুকুর লিজ, উপবৃত্তি, প্রিন্টার কালি, কম্পিউটার মেরামত, বিভিন্ন দিবস পালন ও অন্যান্য খাতের ভুয়া বিল-ভাউচার ব্যবহার করে প্রধান শিক্ষক প্রায় ৭ লাখ ৫৩ হাজার টাকা এবং সহযোগী শিক্ষক সুবীর চন্দ্র রায় প্রায় ২ লাখ ৭৮ হাজার টাকা আত্মসাত করেছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “সব অভিযোগ সত্য নয়, কিছু ভুলভ্রান্তি হতে পারে।” অন্যদিকে সুবীর চন্দ্র রায় বলেন, “প্রমাণ হলে যা আছে, তা পরিশোধ করব।”
বিদ্যালয়ের সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এস. এম. নূরুল আলম রেজভী দাবি করেন, অডিট ও তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে এবং এসব বিলে কমিটির কোনো অনুমোদন ছিল না।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়া বলেন, লিখিত অভিযোগ বা গণমাধ্যমে প্রতিবেদন পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।