
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো) বারিধারা সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মাদ মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি অনিয়ম গ্রাহক হয়রানি অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ আরো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গণমাধ্যম বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন ।
একসময়ের মুনাফায় থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (ডেসকো) লোকসান এখন হাজার কোটি টাকার উপরে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মনিরুল ইসলামের মত ঘুষ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার জন্যই আজকে এই প্রতিষ্ঠানের বেহাল দশা এমনটাই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো) এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মনিরুল
ইসলাম মাগুরা শ্রীপুর উপজেলা, শ্রীপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের হোগলডাঙ্গা গ্রামের কৃষক মফিজ উদ্দিনের ছেলে ২০০৮ সালে
ডেসকো-তে যোগদান করেন। অভিযোগ আছে কর্মজীবনের শুরুতেই জড়িয়ে পড়েন নানা অনিয়ম দুর্নীতিতে অবৈধ অর্থের লোভে।
বর্তমানে তিনি বারিধারা সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিক্রয় ও বিতরণ) পরিচিতি নাম্বার:(১০৬২) দায়িত্বে আছেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো)-এ ব্যাপক অনিয়ম, সিন্ডিকেট ও দুর্নীতি হয়েছিল,এক সময়ের লাভজনক এই বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাটিতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে বিপুল লোকসান ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আলোচিত সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের অনেকেই পাঁচই আগস্টের পরে পেয়েছেন বিভিন্ন শাস্তির মুখে আবার কেউ রাজনৈতিক ভোল পাল্টিয়ে পেয়েছেন পদোন্নতি আছেন বহাল তবিয়তে সেই তালিকায় আছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মনিরুল ইসলাম।
ডেসকোর সবচেয়ে দুর্নীতিবাজ সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ কাউসার আমীর আলী এবং সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আহসান চৌধুরী সহ দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের প্রভাবশালী সদস্য বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মনিরুল ইসলাম এমনটাই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ডেসকোর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. কাউসার আমীর আলী এবং প্রধান প্রকৌশলী শামীম আহসান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে এবং কোনো অনুমোদন ছাড়াই প্রায় ৭১ কোটি ৭৮ লাখ টাকার আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে নিজস্ব ডেটা সেন্টার নির্মাণ করার মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রায় ৭৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতিসাধনের সুনির্দিষ্ট তথ্য পায় দুদক। অথচ প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম আছেন পর্দার আড়ালে। সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নজরুল হামিদের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন তিনি এমনটাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মনিরুল ইসলাম ছিলেন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের প্রভাবশালী সদস্য।
মাগুরায় গ্রামের বাড়ি হওয়ায় আওয়ামী লীগের আর একজন প্রভাবশালী নেতা সাবেক সংসদ সদস্য ও শেখ হাসিনার এপিএস সাইফুজ্জামান শিখরের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং সেই রাজনৈতিক প্রভাব তিনি বিস্তার করতেন বলে অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ বদলি বাণিজ্যেতে ব্যাপক ভূমিকা রাখতেন মনিরুল ইসলাম এবং এই ধরনের তদবির বাণিজ্য করে হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।
অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয় ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো)-র বারিধারা সার্কেল (বা গুচ্ছভুক্ত জোনের মধ্যে থাকা বসুন্ধরা, বাড্ডা বা সংলগ্ন জোন) ও সামগ্রিক বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগে রয়েছে প্রকৌশলী মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ।
বিভিন্ন সময়ে গ্রাহক হয়রানি, অতিরিক্ত বিলিং, প্রিপেইড মিটারের ত্রুটি সহ বিভিন্ন অভিযোগে এই মনিরুল ইসলাম সিন্ডিকেটের কাছে ঘুষের বিনিময়ে অবৈধ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।
বিশেষ করে নতুন সংযোগ এবং মিটার পরিবর্তন সংক্রান্ত কাজে ঘুষ না দিলে গ্রাহকদের বিভিন্নভাবে হয়রানি ও ভোগান্তি পোহাতে হয়।
ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ রয়েছে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
অভিযোগের তালিকায় এখানেও শেষ নয় আরো উল্লেখ করা হয়েছে ঘুষ দুর্নীতি অর্থ আত্মসাৎ করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মনিরুল ইসলাম।
অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে রাজধানীর তেজগাঁও তেজকুনি পাড়া ২৫ আনোয়ার গার্ডেন এই বাড়িতে প্রায় দুই কোটি টাকা দিয়ে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন যা বৈধ আয় দিয়ে কোনভাবেই সম্ভব না। এছাড়াও উল্লেখ করা হয়েছে রাজধানীতে তার রয়েছে একাধিক প্লট ও ফ্লাট এবং গ্রামের বাড়ি মাগুরা ও শ্রীপুর উপজেলায় বিপুল পরিমাণ জমি জমা ক্রয়ের অভিযোগ রয়েছে অবৈধ অর্থ দিয়ে।
আইনের চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য অধিকাংশ সম্পদ বাবা মা স্ত্রী শ্বশুর-শাশুড়ি ও সন্তানের নামে ক্রয় করেছেন।
বিশেষ করে তার স্ত্রী সায়মা আক্তার ও তার সন্তান সামিহা মুসারাতের নামে বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ গচ্ছিত থাকার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে এবং সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তার আত্মীয়-স্বজন সকলের আয়ের উৎস নিয়ে তদন্ত করলেই সত্যতা বেরিয়ে আসবে বলে উল্লেখ করা হয়।
এই বিষয়ে জানতে ঢাকায় ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড ডেসকোর বারিধারা সার্কেল এর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মনিরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি বিধায় তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি।