
টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি
রাহিদ রানা
টাঙ্গাইলের বাসাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে নির্মাণাধীন একটি ব্রিজের ঢালাই কাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। রাতের আঁধারে ঢালাইয়ের কাজ করার অভিযোগের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
ঘটনাটি তদন্তে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর, টাঙ্গাইল এলজিইডি এবং বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) তদন্ত কমিটির সদস্যরা প্রকল্প এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও মতামত গ্রহণ করেছেন। তিনটি তদন্ত কমিটিকেই আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে গঠিত দুই সদস্যের তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন সদর দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাকিল হোসেন ও সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. জাকিউল আলম।
টাঙ্গাইল এলজিইডির পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. তৌহিদুর রহমানকে। সদস্য সচিব টাঙ্গাইল সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী ইফতেখার আহম্মেদ। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী প্রকৌশলী সাকিব-উল-হাফিজ, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও ল্যাব টেকনিশিয়ান মো. আলোব্বর হোসেন।
এছাড়া বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকেও তিন সদস্যের পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ‘প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজেস’ প্রকল্পের আওতায় বাসাইল উপজেলার ‘বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি ভায়া মাইজখাড়া সড়কে ৯০ দশমিক ০৬ মিটার পিএসসি গার্ডার ব্রিজ’ নির্মাণ করা হচ্ছে। ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে ব্রিজটির নির্মাণকাজ যৌথভাবে করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মো. ইউনুস আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ (জেভি)’।
অভিযোগ রয়েছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলা প্রকৌশলী বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত না করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ব্রিজের একটি অংশের ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করে। পরে ঢালাইয়ের ভেতরে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগসংবলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী ফাত্তাউর রহমান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীনের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সাত দিনের মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ ও স্পেসিফিকেশনবহির্ভূত ঢালাই ভেঙে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অফিস আদেশে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত না করে রাতের আঁধারে ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে, যা স্পেসিফিকেশনবহির্ভূত। নির্দেশনা অনুযায়ী, পত্র প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে ওই ঢালাই ভেঙে সাইট থেকে অপসারণ করতে হবে। পরে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষিত গুণগত মানসম্পন্ন নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে উপজেলা প্রকৌশলী ও উপ-সহকারী প্রকৌশলীর উপস্থিতিতে নিয়ম অনুযায়ী পুনরায় ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
এছাড়া ঠিকাদারি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন বলেন, “সরকারের কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে এ ধরনের অনিয়ম কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা ও দায়ীদের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।