
টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি
রাহিদ রানা
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে কমিউনিটি ভিত্তিক ১০ বাড়ি পানি সরবরাহের পাম্প, গভীরনলকূপ স্থাপন ও পাইপ লাইন বসানো কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ১০ বাড়িতে পানি সরবরাহের এই প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর সহযোগিতায় মোটা অংকের বিল উত্তোলন করে এখন ঠিকাদার লাপাত্তা।
বছরের পর বছর ধরে অকেজো হয়ে পরে আছে ১৮টি পাম্প বসানোর নাম করে বোরিং করা গভীর নলকূপের পাইপ। কোনো কোনো জায়গায় পাইপে সাবমার্সেবল মটর লাগালেও তা নষ্ট হয়ে ব্যবহার অকেজো হয়ে আছে। আর পানির ট্যাঙ্কি বসানো ও বাড়ি বাড়ি পাইপ লাগানোর তো কোন খবরই নেই।
সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এমন ১৮টি প্রকল্পের কাজ সরেজমিনে পরিদর্শণে গিয়ে দেখা গেছে এ দপ্তর যেন দুনীতির আখরা । কাজ শেষ করার আগেই প্রকৌশলীর সহযোগিতায় বিল উত্তোলন করে ঠিকাদার পালানোয় এ প্রকল্পটি এখন মুখ থুবরে পরে আছে। এবং সরকারের গচ্চা যেতে বসেছে প্রায় দেড় কোটি টাকা।
উপজেলার ,আউশনারা,মহিষমারা,কুড়ালিয়া, আলোকদিয়াসহ কয়েকটি ইউনিয়নে সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে বিভিন্ন গ্রামে কমিউনিটি ভিত্তিক ১০ বাড়িতে পানি সরবরাহ করার জন্য বসানো সাবমার্সেবল মটর, পানির ট্যাঙ্ক,ট্যাঙ্ক বসানোর জন্য পিলার নির্মাণ,১০ বাড়িতে পাইপ লাইন টানা,কল বসানো,কলের জায়গায় পাকাকরণ ও পাম্প স্থাপনের জায়গায় পাকাকরণ করে দিয়ে ব্যবহার যাগ্য করে দেয়ার কথা। কিন্তু সরেজমিনে দেখা যায় ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার পুরো প্রকল্পের মধ্যে ১৮টি পাইপ বোরিং ও ৫টি পিলার নির্মাণ করা হয়েছে মাত্র। যার বিপরীতে ৬০ শতাংশ বিল প্রদান করে এই অফিস।
এই প্রকল্পটি ২০২১ ২০২২ অর্থ বছরে চালু করে ছয় মাসের মধ্যে সম্পুর্ণ কাজ শেষ করার কথা। কিন্তু গত প্রায় চার বছর পার হতে চললেও এখনো প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসে ঘুরে শুধু মাত্র আশ্বাস ছাড়া কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে উপজেলার মহিষমারা ইউনিয়নের নেদুর বাজার এলাকার জোসনা বেগম, জহুরা বেগম, নাছিমা বেগম জানান, প্রায় ৪ বছর আগে এলাকার মেম্বার ও চেয়ারম্যান তাদের কাছ থেকে এনআইডি কার্ডের ফটোকপি আর ১০ বাড়ি থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা নিয়ে য়ায় এবং বলে সরকার বিনামূল্যে মোটর ও পানি ট্যাঙ্কি দিবে। কিন্তু গত প্রায় চার বছর আগে বসানো পাইপ ছাড়া আমরা আর কিছুই পাইনি।
কুড়ালিয়া ইউনিয়নের টিকরী গ্রামের আরিফ হোসেন জানান,আমাদের নিকট থেকে প্রায় ৪ বছর আগে ১০ হাজার টাকা নিয়ে চেয়ারম্যান ১০ বাড়িতে নিরাপদ পানি সরবরাহের পাম্প দিবে বলে একটি পিলার তৈরি করে ট্যাঙ্ক বসানোর জন্য। কিন্তু প্রায় ৪ বছর পার হতে চললেও এখনো পর্যন্ত কোন ট্যাঙ্কি চোখে দেখলাম না। দড়িহাতীল গ্রামের সোহল মেম্বার জানান, এ প্রকল্পের মোটর ও টেঙ্কি আমার বাবা মেম্বার থাকা অবস্থায় এনেছিল। ১০ বাড়িতে দেয়ার জন্য কিনা জানিনা। আমি সাবমার্সেবল মোটর ও ট্যাঙ্কি পেয়েছি এখনো সংযোগ করে দেয়নি। আর দিবে কিনা এটাও বলতে পারতেছিনা। অফিসে যোগাযোগ করলে তারা বলে ঠিকাদার পালিয়েছে। অপেক্ষা করেন করে দেয়া হবে।
২০২১ ২০২২ অর্থবছরে মধুপুর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ১০ বাড়ি বিস্তৃত কমিউনিটি ভিত্তিক ১৮ টি সাবমার্সেবল পাম্প ও গভীর নলকূপ বসানোর প্রকল্পে ১৪৮২৬৩৩৯.৯০ টাকা বরাদ্দা আসে,সে বরাদ্দ থেকে বিভিন্ন ইউনিয়ন যে কাজ করা হয়েছে যা মোট কাজের ৩০% কাজ এখনো শেষ হয়নি। অথচ অফিসের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জামালপুরের খন্দকার এন্টারপ্রাইজকে ৬০% বিল বাবদ ৮৯৫৮১২৯.৭৮ টাকা প্রদান করা হয়েছে।
এ বিষয়ে খন্দকার এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আরিফ খন্দকারের সাথে মুঠোফোনে(০১৭১১ ৩৫০৩৫০) একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
বিষয়ে মধুপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ইমরান হোসেন বলেন, কাগজপত্র ছাড়া আমি কিছু বলতে পারব না। যদি বিল দেয়ার এমন কোন ঘটনা হয়ে থাকে তাহলে আমার পূর্বে হতে পারে। এ ছাড়া আমি এ বিষয়টি জানার পর ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ বাস্তবায়নের জন্য চিঠি দিয়েছি।
উপসহকারী প্রকৌশলী আল আমিন বলেন, আমি এই অফিসের বস নই, যিনি উর্ধতন আছেন তিনি আপনাদের সবকিছু সরবরাহ করবেন।
এ ছাড়া ৩০% কাজ শেষ করে ৬০% বিল দেয়ার বিষয়ে আল আমিন জানান, ওই সময়ে ধনবাড়ী পৌরসভার সাবেক মেয়র তপন এই প্রকল্পের কাজ পায়। তাদের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তাদের মতো করে করতে হয়েছে। এর বেশি আমি কিছু বলতে পারব না।
স্থানীয় সেবা গ্রহীতাদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ সেবা পেতে এসে অনেক সময় তারা এ দপ্তরের কার্যালয়ের প্রধান ফটক বন্ধ পান, ফলে ভোগান্তির শিকার হয়ে ফিরে যেতে হয়। বিশেষ করে পানীয় জল, স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক সহযোগিতা না পেয়ে সাধারণ মানুষ হতাশা প্রকাশ করেছেন এ দপ্তর নিয়ে। এ ছাড়াও রয়েছে টাকা ছাড়া কোন কাজ না করে দেয়ার অভিযোগও।