
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
‘রুপালী মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নীলফামারীর ডিমলায় দেশীয় মৎস্যসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি, মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে ১৩টি জলাশয়ে ২৫০ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরের পুকুরে পোনা অবমুক্ত করার মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে রাজস্ব খাতের অর্থায়নে বদ্ধ জলাশয়, প্লাবনভূমি ও বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচির আওতায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ডিমলা উপজেলার ১৩টি জলাশয়ে মোট ২৫০ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হবে।
জলাশয়গুলো হলো উপজেলা পরিষদ পুকুর, উপজেলা ভূমি অফিস পুকুর, ডিমলা এতিমখানা পুকুর, ডিমলা থানা পুকুর, ডাঙ্গারহাট মৎস্য অভয়াশ্রম, বুড়ি তিস্তা রিজার্ভার, জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজ পুকুর, ডিমলা ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজ পুকুর, জনতা ডিগ্রি কলেজ পুকুর, খালিশা চাপানী ফাজিল মাদ্রাসা পুকুর, গয়াবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ পুকুর, উত্তর ছাতনাই কেডি মাদ্রাসা পুকুর এবং নাসির উদ্দিন প্রধান ও আবেদা প্রধান এতিমখানা ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা পুকুর।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, নীলফামারী বরুণ কুমার মন্ডল বলেন, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও দেশীয় মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে পরিকল্পিতভাবে পোনা অবমুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। জলাশয়ভেদে উপযোগী প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করার পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, সরকারি জলাশয়গুলোতে পরিকল্পিতভাবে পোনা মাছ অবমুক্ত করার মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলাশয়ের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব। পাশাপাশি জলাশয়গুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ও মাছের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশিদ বলেন, দেশীয় মৎস্যসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি, মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যেই এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মৎস্যসম্পদ রক্ষায় নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ শিকার এবং মা মাছ ও পোনা মাছ নিধন বন্ধে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, নীলফামারী বরুণ কুমার মন্ডল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মীর হাসান আল বান্না, জেলা আহ্বায়ক কমিটির উপদেষ্টা অধ্যাপক রইসুল আলম চৌধুরী, সদস্য অধ্যক্ষ মনোয়ার হোসেন ও গোলাম রব্বানী প্রধান, জামায়াতে ইসলামী ডিমলা উপজেলা সেক্রেটারি রোকনুজ্জামান বকুল, মিনালুজ্জামান মিন্টুসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।