
পাবনা জেলা প্রতিনিধি
লাবলু বিশ্বাস
বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে শোভা পাচ্ছে সরিষা ফুল এবং সরিষার দানা । দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠে যতদূর চোখ যায় শুধু হলুদ আর হলুদ। সরিষা ফুলের মৌ-মৌ গন্ধ চারদিকে। এবার পাবনা জেলার প্রায় প্রতিটি উপজেলায় কমবেশি প্রতিটি মাঠে সরিষার আবাদ হয়েছে চোখে পড়ার মতো, বাম্পার ফলন হবে বলে চাষিরা জানান । আর অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই কৃষকের ঘরে উঠবে সরিষা। কম খরচে, বেশি লাভের আশায় কৃষকরা আগাম জাতের সরিষা চাষাবাদ করেন এবং বারী ১৪ ও ১৭ জাতের অধিক ফলনশীল সরিষা ফসলের চাষ করছেন। বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার সরিষার বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন চাষিরা।
পাবনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহানা পারভিন লাবনী ও ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মিতা সরকার বলেন,
উন্নতমানের সরিষা চাষ হওয়ার কারণে এবার ফলন বৃদ্ধি হবে । জেলায় প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১৮ লাখ মেট্রিক টন। পাবনা জেলায় উৎপাদিত বিভিন্ন সবজির সুনাম রয়েছে দেশজুড়ে। লাভজনক তেল জাতীয় ফসল সরিষা চাষের আবাদ কৃষকের বেশি করছে । কম খরচ, কম পরিশ্রম আর অল্প সময়ে সরিষা চাষ করা যায় বলে এটি অত্যন্ত লাভজনক একটি ফসল। প্রতি বিঘা জমি থেকে চলতি মৌসুমে গড় ৫ থেকে ৬ মণ হারে সরিষার ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও সরিষা চাষ করলে জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পায়, এবং সরিষা থেকে প্রচুর পরিমানে মধু সংগ্রহ করা হয়।
আর সরিষা তোলার পর বোরো ধান রোপণ করা সম্ভব। যার কারণে প্রতি বছরই সরিষার চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাবনা জেলায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে সরিষার। ভোজ্য তেল হিসেবে সরিষার তেলের চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি দাম বেশি হওয়ায় আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের।
জেলার পাঁচটি উপজেলায় সবচেয়ে বেশি সরিষা আবাদ করে থাকেন কৃষকরা। এরমধ্যে ঈশ্বরদী , চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া চলন বিল এলাকা বেড়া উপজেলা বেশি সরিষার আবাদ হয়ে থাকে। এছাড়াও অন্যান্য উপজেলাতেও সরিষা চাষ করেছেন কৃষকেরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে জেলায় সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। সরিষার দামও ভালো পাওয়ার আশা করছেন এ জেলার চাষিরা। চাষিরা বলছেন, সরিষা তেলের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার কারনে বাজারে সরিষার দাম এখন বেশ ভালো। বাজার পরিস্থিতি এমন থাকলে এবারও ভালো আয় হবে সরিষা বিক্রয় করে কষৃকদের।
রবি মৌসুমে আলুর বদলে উন্নত মানের সরিষার বীজ বপন করেছেন বেশি বেশি । উন্নত জাতের সরিষা বপনের দিন থেকে মাত্র ৭৫ দিনের মধ্যে কৃষকেরা এই সরিষা জমি থেকে কর্তন করতে পারে। এ ফসলটিতে তেমন সেচ দিতে হয় না। বপনের সময় মাটির নিচে সামন্য পরিমাণ রাসায়নিক সার দেওয়ার পরেই ভালো ফলন পেয়ে থাকেন চাষীরা। এক বিঘা জমি চাষ করতে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার মত খরচ হয়। সরিষা বিক্রির পর সব খরচ বাদে ৮ থেকে ১০হাজার টাকা লাভ হয়।
ঈশ্বরদী উপজেলার সরিষা চাষি কোরবান আলী জানান, তিনি আমন ধান কাটার পর সাড়ে ৪ বিঘা জমিতে দেশী জাতের সরিষা রোপন করেছেন। কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের পরামর্শক্রমে এ ফসলের ভালো ফলন আশা করছেন তিনি। মাঠে এখন সরিষার আগাম জাতের টি কয়েকদিন পর সরিষা মাড়ায় করা যাবে।
পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ জালাল উদ্দীন জানান, চলতি মৌসুমে পাবনা জেলায় ৫৩ হাজার ৮২০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ২২ হাজার বিঘা জমি বেশি। ইতোমধ্যে ৪২ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শতভাগ জমির সরিষা মাড়ায় শুরু হবে।
এ বছর পাবনা ২০ লাখ ৭৭ হাজার ৮০০ মণ সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় পাঁচ লাখ ৭৬ হাজার ৬৭৫ মণ বেশি। তিনি বলেন আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে ফলন আরো বাড়তে পারে। ভোজ্য তেলের চাহিদা মেটাতে সরিষার আবাদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।।