
লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি:
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লক্ষীপাশা গ্রামের মালোপাড়ায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে একটি সরকারি রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে অন্তত ২৫টি সংখ্যালঘু জেলে পরিবারের চলাচলের একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে গেছে। টানা ৬ দিন ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন এসব পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শ্রমিক দিয়ে ওই প্রাচীর নির্মাণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, লক্ষীপাশা মৌজার সাবেক দাগ নং ২৬১ ও আর.এস ২০২৮ দাগের প্রায় ৬ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের যাতায়াতের রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ব্রিটিশ আমল থেকে প্রচলিত এ পথটি বিভিন্ন রেকর্ডে সরকারি রাস্তা হিসেবেও উল্লেখ রয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, হঠাৎ করে প্রাচীর তুলে দেওয়ায় তাদের বসতবাড়ির সঙ্গে বাইরের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়াও এখন দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
অবরুদ্ধ বাসিন্দা হারানচন্দ্র বিশ্বাস বলেন,
“এর আগেও দুইবার এ পথ বন্ধ করা হয়েছিল। প্রশাসনের সহায়তায় ভেঙে দেওয়া হয়। কিন্তু এবার আবার প্রাচীর তুলে দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু ৬ দিনেও কোনো সমাধান পাইনি।”
ভ্যানচালক ধ্রুব বিশ্বাস বলেন,
“এই রাস্তা দিয়ে ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতাম। পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আয় বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা এখন কার্যত গৃহবন্দি।”
স্বপ্না বিশ্বাস নামে এক নারী জানান,
“ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না। বাঁশের মই দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে, যা খুবই কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ।”
এ বিষয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের (BHRC) আজীবন সদস্য ও ঢাকা উত্তর মহানগরের সহ-সভাপতি অরবিন্দু রায় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানা গেছে।
জেলা প্রশাসক ড. মো. আব্দুল সালাম জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তিনি বলেন,
“ঘটনাটি পুরোপুরি অবরুদ্ধ নয়, তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু উভয় পক্ষকে নিয়ে বসার উদ্যোগ নিয়েছেন।”
অভিযুক্ত দেদার-ই-এলাহী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জমিটি তাদের কেনা সম্পত্তি এবং এটি নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। তার দাবি, সংশ্লিষ্ট স্থানে অন্য একটি বিকল্প রাস্তা রয়েছে এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে সংখ্যালঘু ইস্যু তৈরি করা হচ্ছে।
লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী কায়সার জানান, উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ডাকা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়ায় বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় প্রশাসনকে প্রভাবিত করে পুনরায় রাস্তা বন্ধ করা হয়েছে। দ্রুত প্রাচীর অপসারণ করে চলাচলের পথ উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।