লোহাগাড়া প্রতিনিধি সুকুমার নাথ
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা পদুয়ায় এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।
পরবর্তীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপহৃত শিক্ষককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২ রা নভেম্বর) দুপুরে লোহাগাড়া থানা কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী এসব তথ্য গণমাধ্যমকে জানান।
অপহৃত শিক্ষক স্বরুপ কান্তি দাশ (৫০) লোহাগাড়ার পদুয়া ওয়ার্ড বাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি প্রতিদিনের মতো গত রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ৭টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার এলাকার বাসা থেকে নিজ কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। সকাল ৯টা ৫ মিনিটের দিকে পদুয়া বাজার এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা একটি চক্র অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক তাঁকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে শিক্ষকের মুঠোফোন থেকে তাঁর স্ত্রী জেলী চৌধুরীকে ফোন করে অপহরণকারীরা ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। বিকেল ৩টার মধ্যে টাকা না দিলে শিক্ষককে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে কান্নার শব্দ শুনিয়ে এবং বারবার ফোনে চাপ সৃষ্টি করে একপর্যায়ে মুক্তিপণের অঙ্ক কমিয়ে ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয় এবং সেই টাকা নিয়ে সাতকানিয়ার কেরানীহাট গোলচত্বরে যেতে বলা হয়।
পরিবারের মাধ্যমে খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে নামে লোহাগাড়া থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিখোঁজ শিক্ষকের অবস্থান নিশ্চিত করে সাতকানিয়ার কেরানীহাট এলাকায় সাড়াশি অভিযান চালিয়ে শিক্ষক স্বরুপ কান্তি দাশকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত দুইজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ছমদ আলী মুন্সীপাড়ার মৃত সুলতান আহমদের ছেলে মো. রফিক উদ্দিন (৫৩) এবং একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আলী সিকদারপাড়ার মৃত শাহ জাহানের ছেলে নেজাম উদ্দিন (৪৮)।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অভিযানে অপহরণকারীদের কাছ থেকে একটি ছুরি, একটি গামছা, পাঁচ লাখ টাকার একটি চেক এবং তিনটি কার্টিস পেপার জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছেন যে, তাঁরা ওই শিক্ষকের বিভিন্ন সম্পত্তির কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন এবং আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে সিএনজি ভাড়া করে এই অপহরণকাণ্ড ঘটান। এ ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে