
জান্নাতুল বাকী জেলা প্রতিনিধি শেরপুর : শেরপুর জেলার সদর উপজেলার বলাইয়েরচর ইউনিয়নের আমতলী এলাকায় ৯ ডিসেম্বর শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ময়মনসিংহ জেলার সীমান্তঘেষা হালুয়াঘাট উপজেলা থেকে একটি মিনিট্রাক ও দুইটি পিকআপ বোঝাই অবৈধভাবে পাচারকালে ভারতীয় চিনি গুলো ছিনতাই কালে সিয়াম (২৮) নামে এক ভুয়া সাংবাদিক ও আনিস (২৮), নাজমুল হোসেন (২৩) নামে দুই চালকসহ তিনজনকে স্থানীয় জনতা আটক করে শেরপুর সদর থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ভুয়া সাংবাদিক সিয়াম শেরপুর সদর উপজেলার লছমনপুর ইউনিয়নের হাতীআগলা গ্রামের মৃত সুলতান আহমেদের ছেলে ও দুই চালক জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার শ্যামগঞ্জ কালিবাড়ী গ্রামের নওশের আলীর ছেলে আনিস, ময়মনিসংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার আঃ রহমানের ছেলে নাজমুল হোসেন।
পুলিশ ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মিনিট্রাক নং ঢাকা মেট্টো-ড-১১-৭৮৮৪, পিকআপ ঢাকা মেট্টো-ন-২১-৪১৫৯ ও ঢাকা মেট্টো-ন-১৯-২৭১৪ যোগে ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলা থেকে ভারতীয় চিনি বোঝাই ওই তিনটি গাড়ী জামালপুর জেলার নূরুন্দী বাজারে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাবার সময় শনিবার ভোরে শেরপুর সদর উপজেলার বলাইয়ের চর আমতলী এলাকায় পৌছামাত্র ভুয়া সাংবাদিক সিয়ামের নেতৃত্বে কতিপয় যুবক ওই সড়কে গাছ ফেলে বেড়িকেড দিয়ে তিনটি চিনি বোঝাই গাড়ীর গতিরোধ করে। এসময় চিনি পাচারকারী মালিকের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় ওই ভুয়া সাংবাদিক সিয়াম এবং আরো ৫ হাজার টাকা দাবি করে। এতেও ক্ষান্ত থাকেনি সিয়াম ও তার সহযোগিরা। পরে তারা ট্রাক ও পিকআপ থেকে চিনি ছিনতাইকালে এসময় ট্রাক ও পিকআপের চালকদের চিৎকারে এলাকাবাসী সিয়ামকে আটক করে এবং গণধোলাই দেয়। এসময় তার সাথে থাকা অপরাপর সহযোগিরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে সদর থানার সহকারি উপ-পরিদর্শক শফিক সঙ্গীয় ফোর্সসহ ওই ভুয়া সাংবাদিককে জনতার হাত থেকে উদ্ধার এবং অবৈধ চিনি পাচারকারী দুই চালককে আটক করলেও এক চালক পালিয়ে যায়। পরে অতিরিক্ত ফোর্স ঘটনাস্থল গিয়ে চিনি বোঝাই মিনিট্রাক ও পিকআপ আটক করে শেরপুর সদর থানায় নিয়ে যায়।
এব্যাপারে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বছির আহমেদ বাদল সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এঘটনায় শেরপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।