
টাংগাইল জেলা প্রতিনিধি
রাহিদ রানা
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়া এলাকার বহুল আলোচিত শিশু সামিয়া আক্তার হত্যা মামলায় আনোয়ার হোসেনের ছেলে সাব্বির মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অপহরণ, মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে আটকে রাখা এবং লাশ গুমের চেষ্টার অভিযোগেও তাকে পৃথক পৃথক সাজা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ. ন. ম. ইলিয়াস এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে সাব্বির পেছন থেকে সামিয়ার মুখ চেপে ধরে অপহরণ করে পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে সামিয়া নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে পাশের একটি ধানক্ষেতের ড্রেনে কাদামাটি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।
ঘটনার পর নিজের পরিচয় গোপন রেখে একটি ইমু আইডি থেকে ভয়েস বার্তার মাধ্যমে সামিয়ার বাবা রনজু মিয়ার কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে আসামি। এ ঘটনায় ৭ সেপ্টেম্বর সখীপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরদিন ধানক্ষেতের ড্রেন থেকে সামিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২৮ সেপ্টেম্বর সাব্বিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ২০২৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলায় মোট ১৮ জন সাক্ষ্য দেন।
রায়ে আদালত হত্যার দায়ে সাব্বিরকে মৃত্যুদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অপহরণের দায়ে ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে আটকে রাখার দায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং হত্যার পর লাশ গুমের চেষ্টা ও গুরুত্বপূর্ণ আলামত কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে ফেলায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন (স্টেট ডিফেন্স) মামলা পরিচালনা করেন।